আমার মতে, আসাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চূড়ান্ত ভোক্তারা স্বল্পমূল্যে পণ্য ভোগ করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। কেননা, বণ্টন প্রণালিতে মধ্যস্থব্যবসায়ীরা উপস্থিতি পণ্যমূল্য বাড়ায়।
মূলত মধ্যস্থব্যবসায়ীরা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে সহায়তা করে। তবে বণ্টন প্রণালিতে মধ্যস্থব্যবসায়ীর সংখ্যা যত বেশি হয়, পণ্যের মূল্যও তত বৃদ্ধি পায়। কারণ সব মধ্যস্থব্যবসায়ীই পণ্যের ক্রয়মূল্যের সাথে প্রয়োজনীয় মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে।
উদ্দীপকের জনাব আসাদ একজন পাইকারি ব্যবসায়ী। তিনি উৎপাদকের পণ্য নিজস্ব গাড়িতে করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন। আর ভোক্তারা উক্ত পণ্য খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ক্রয় করে থাকে। এক্ষেত্রে বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে পাইকারি ব্যবসায়ী জনাব আসাদ ও খুচরা ব্যবসায়ীর মতো মধ্যস্থব্যবসায়ীরা রয়েছে।
জনাব আসাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ফলে চূড়ান্ত ভোক্তারা তাদের হাতের কাছে পণ্য পেলেও মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের কারণে তারা স্বল্প মূল্যে পণ্য ভোগ করতে পারছে না। কারণ, উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কেনার পর জনাব আসাদ নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা যোগ করে তা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। আর আসাদের নিকট থেকে আয়ের পর খুচরা ব্যবসায়ীরাও নির্দিষ্ট মুনাফা যোগ করে ভোক্তার কাছে বিক্রি করে। ফলে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া অনেক সময় আসাদের মতো পাইকাররা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে পণ্য কিনতে হয়। সুতরাং বলা যায়, জনাব আসাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ভোক্তারা স্বল্প মূল্যে পণ্য ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।