মুক্তিযুদ্ধের আলোকে হওয়ায় উদ্দীপকের ঘটনা 'রেইনকোট' গল্পের সাথে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পে বিবৃত মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল এখানে হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন এবং ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ও গেরিলা আক্রমণের বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে। হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান পেতে গল্পের কথক নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে নির্মম নির্যাতন চালায়। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম সঞ্চারিত হয়, তার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে ।
উদ্দীপকেও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্য রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির উপর আক্রমণ চালায়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের বর্বরতা চালায় দেশজুড়ে। বাংলার জনতা সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানিদের অত্যাচার রুখে দেয়। দীর্ঘ নয় মাস ধরে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধ চলে । অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। উদ্দীপকে কেবল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে 'রেইনকোট' গল্পের একজন ভীতু প্রকৃতির মানুষ শিক্ষক নুরুল হুদার মানসিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং এক পর্যায়ে সব কিছু অতিক্রম করে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতার সাথে একাত্মতা ঘোষণা এবং রেইনকোটের ব্যঞ্জনাময় ব্যবহার ইত্যাদি ব্যাপারগুলো উদ্দীপকের সাথে গল্পের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। তবে গল্প ও উদ্দীপকের পটপরিসর এক মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা 'রেইনকোট' গল্পের সাথে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ ।