উদ্দীপকে জনির আচরণকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় "আগ্রাসন"। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
আগ্রাসন হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের এক প্রধান সমস্যা। খবরের কাগজ ও টেলিভিশনের বার্তায় প্রতিদিন আগ্রাসন বা সন্ত্রাসের খবর দেখতে পাওয়া যায়। মায়ারস (Myers, ১৯৯০) বলেছেন, আগ্রাসন হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত আক্রামণাত্মক আচরণ। আগ্রাসন যখন ধ্বংসের রূপ নেয় এবং জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে তখন তাকে সন্ত্রাস বলে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ধ্বংসাত্মক। ছিনতাই, ধর্ষণ, রাহাজানি, অপহরণ, ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট, নারি ও শিশু নির্যাতন-এগুলো হলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। সামাজিক মান ও বিধি ভঙ্গ করা এবং প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শনই হলো সন্ত্রাসের বৈশিষ্ট্য। এ সকল কাজের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করাই হলো সন্ত্রাসীদের মূল লক্ষ্য। আঘাত করে বা ভয় দেখিয়ে বা কখনো কখনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে তান্ডব সৃষ্টি করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করাই সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য।
ক্রাইডার এবং সহযোগীরা বলেন, "কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি ক্ষতি বা ধ্বংস করার জন্য যে আচরণ সম্পন্ন করে তাকে আগ্রাসন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।" জন সি. রাচ বলেন, "কোনো ব্যক্তি যিনি ক্ষতি বা অনিষ্ট হতে চান না তাকে যদি কেউ ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে চান তাহলে এ ধরনের আচরণকে আমরা আগ্রাসন বলি।"চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে উন্নত ও অনুন্নত দেশের সন্ত্রাসের ধরনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উন্নত দেশে গুপ্তচরবৃত্তি, ব্যাংক ডাকাতি, প্লেন হাইজ্যাক, কূটনৈতিক অপহরণ, ফর্মুলা চুরি, ব্লাক মেইলিং, মাদক দ্রব্যের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং এ সকল কারণে খুন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অন্তর্ভুক্ত। অনুন্নত দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে খুন-এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রকট।