Chapter 4 : আচরণের উপর পরিবেশের প্রভাব Psychology 2nd Paper

HSC Psychology 2nd Paper এর Chapter 4 : আচরণের উপর পরিবেশের প্রভাব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩০৫

প্রশ্ন

Psychology 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: তপুর বয়স ৬। সে গত দুই বছর ধরে স্কুলে পড়ে। বাবা-মা খেয়াল করলেন এরই মধ্যে তপু কিছুটা নিয়ম-কানুন মানতে শিখেছে, সে কিছুটা স্বাধীনতা চায় অন্যকেও সহযোগিতা। করে। দৃশ্যকল্প-২: নিপু ও দীপু দুই বন্ধু। তারা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই তারা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। বন্ধুরা যে কাজ করে তারাও একই ধরনের কাজ করে। শিক্ষক খেয়াল করলেন নিপু ও দীপুর বন্ধুরা সব সময় সত্য কথা বলে, পরের উপকার করে এবং পড়ালেখায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষক আরও লক্ষ্য। করলেন এরা ধর্মের বিধি-নিষেধও মেনে চলে।
সমাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. যৌন হয়রানি নারী জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এবং সে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ২. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৩. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েদের অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
তপুর আচরণে সমাজীকরণের কোন মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ তপুর আচরণে সমাজীকরণের যে মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো- বিদ্যালয় এবং খেলার সাথী ও সহপাঠী। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. বিদ্যালয়: পরিবার নামক একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। যার নাম বিদ্যালয়। বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের বাইরের সদস্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা, পাঠকক্ষের অন্যান্য সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সবকিছুই শিশুকে সমাজীকরণে সহায়তা করে। পারিবারিক স্নেহ- মমতা ছাড়াও বিদ্যালয়ে আসার ফলে শিশু বিদ্যালয়ের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তখন শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এবং কাজ করার সময় সম্পর্কেও সচেতন হয়। বিদ্যালয় শিশুর আচরণের দিকগুলোকে উন্নত করে। ২. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদণ্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে। একটি শিশুর নিজের সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টিতে সমবয়সী বা সহপাঠীরা ভূমিকা রাখে। সমবয়সী, খেলার সাথী ও সহপাঠীদের প্রভাবে শিশুর মধ্যে অনেক সামাজিক দায়িত্বের বিকাশ লাভ করে। সামাজিক দায়িত্বগুলো হলো সহযোগিতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি।
"নিপু ও দীপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে খেলার সাথী ও সহপাঠী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিদ্যমান। নিচে "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো- ১. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদন্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে। ২. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: আমাদের সমাজের একটি গুরত্বপূর্ণ উপাদান হলো ধর্ম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান আধুনিক সমাজে শিশু পরিবার থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা পেয়ে থাকে। পৃথকভাবে বিবেচনা করলে, পরিবারের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা একটি শিশুকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। মূলত ধর্মীয় অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ শিশুর আচরণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বলা যায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি। সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে হলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা আদর্শগুলো মেনে চলা উচিত। সমাজীকরণ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মানব আচরণ নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: তপুর বয়স ৬। সে গত দুই বছর ধরে স্কুলে পড়ে। বাবা-মা খেয়াল করলেন এরই মধ্যে তপু কিছুটা নিয়ম-কানুন মানতে শিখেছে, সে কিছুটা স্বাধীনতা চায় অন্যকেও সহযোগিতা। করে। দৃশ্যকল্প-২: নিপু ও দীপু দুই বন্ধু। তারা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই তারা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। বন্ধুরা যে কাজ করে তারাও একই ধরনের কাজ করে। শিক্ষক খেয়াল করলেন নিপু ও দীপুর বন্ধুরা সব সময় সত্য কথা বলে, পরের উপকার করে এবং পড়ালেখায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষক আরও লক্ষ্য। করলেন এরা ধর্মের বিধি-নিষেধও মেনে চলে।
সমাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. যৌন হয়রানি নারী জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এবং সে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ২. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৩. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েদের অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
তপুর আচরণে সমাজীকরণের কোন মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ তপুর আচরণে সমাজীকরণের যে মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো- বিদ্যালয় এবং খেলার সাথী ও সহপাঠী। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. বিদ্যালয়: পরিবার নামক একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। যার নাম বিদ্যালয়। বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের বাইরের সদস্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা, পাঠকক্ষের অন্যান্য সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সবকিছুই শিশুকে সমাজীকরণে সহায়তা করে। পারিবারিক স্নেহ- মমতা ছাড়াও বিদ্যালয়ে আসার ফলে শিশু বিদ্যালয়ের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তখন শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এবং কাজ করার সময় সম্পর্কেও সচেতন হয়। বিদ্যালয় শিশুর আচরণের দিকগুলোকে উন্নত করে। ২. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদণ্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে। একটি শিশুর নিজের সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টিতে সমবয়সী বা সহপাঠীরা ভূমিকা রাখে। সমবয়সী, খেলার সাথী ও সহপাঠীদের প্রভাবে শিশুর মধ্যে অনেক সামাজিক দায়িত্বের বিকাশ লাভ করে। সামাজিক দায়িত্বগুলো হলো সহযোগিতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি।
"নিপু ও দীপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে খেলার সাথী ও সহপাঠী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিদ্যমান। নিচে "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো- ১. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদন্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে। ২. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: আমাদের সমাজের একটি গুরত্বপূর্ণ উপাদান হলো ধর্ম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান আধুনিক সমাজে শিশু পরিবার থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা পেয়ে থাকে। পৃথকভাবে বিবেচনা করলে, পরিবারের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা একটি শিশুকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। মূলত ধর্মীয় অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ শিশুর আচরণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বলা যায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি। সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে হলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা আদর্শগুলো মেনে চলা উচিত। সমাজীকরণ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মানব আচরণ নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
সমাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
দেহের গড়ন ও চেহারা আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদানসমূহের মধ্যে চেহারা বা দৈহিক গড়ন অন্যতম প্রধান উপাদান। সাধারণত দৈহিক গড়ন ও চেহারা ব্যক্তির প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ সৃষ্টির ব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে থাকে। আকর্ষণীয় মুখশ্রী ও অনুকূল দৈহিক গড়ন-এর প্রতি আমরা সবসময়ই আগ্রহান্বিত। পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন শরীর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। দৈহিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির গাত্রবর্ণ গৌর বা ফর্সা রঙের প্রতি দুর্বলতা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দেখা যায়। দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আবার সুন্দর মুখশ্রীও অন্যকে আকর্ষণ করে। সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি শারীরিক আকর্ষণ বা চেহারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আবার মেয়েরা তাদের সঙ্গী উচ্চ পদমর্যাদা বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান, সমগোত্রীয় এবং একই ধর্মাবলম্বী হলে তার প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে শারীরিক অবয়ব বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এসে যায়। সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। এজন্য চিত্রকর্মে নারী পুরুষের হৃষ্টপুষ্ট ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের দেখান হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ সমাজীকরণের কোন প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ সমাজীকরণের যে প্রক্রিয়াটি শনাক্ত করা যায় তা হলো সরাসরি শিক্ষাদান। নিম্নে প্রক্রিয়াটির ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো- সমাজীকরণ হলো ব্যক্তিক সামাজিক বা সাংস্কৃতিক জগতে দীক্ষিত করার প্রক্রিয়া। এটি মূলত একটি সামাজিক শিক্ষণ প্রক্রিয়া। এ শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরাসরি শিক্ষাদান। শিশুর সমাজীকরণে এ শিক্ষণ প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি শিক্ষাদান ও করণ শিক্ষণের সাথে এর পার্থক্য এই যে, সরাসরি শিক্ষাদানে ব্যক্তিকে কী করতে হবে তার সুনির্দিষ্ট মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া সেই নির্দেশের অনুসারী হলে তাকে প্রশংসিত বা পুরষ্কৃত করা হয়। অন্যথায়, তাকে তিরস্কৃত বা অপুরষ্কৃত করা হয়। যে কোনো নৈপুণ্য শেখার ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাদান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী, আচরণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে আমরা সচরাচর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকি। এ শিক্ষণ' প্রক্রিয়ার দ্বারা শিশু বা ব্যক্তি প্রয়োজনীয় মৌখিক নির্দেশনাবলির মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও কৃষ্টি উপযোগী রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও সামাজিক আদর্শ আচরণসমূহ শেখে। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এর প্রতি ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সেখানে একজন শিক্ষিকা তিনটি শিশুর একটিকে মৌখিক নির্দেশনা দিচ্ছে। উপরিউক্ত আলোচনা প্রতীয়মান হয় যে, দৃশ্যকল্পে সমাজীকরণের সরাসরি শিক্ষণ প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে।
সমাজীকরণে দৃশ্যকল্প-২ এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর এবং কোন চিত্রের প্রভাব অধিক বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এর চিত্র-ক এবং চিত্র- সমাজীকরণের দুটি মাধ্যম যথাক্রমে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নিম্নে সমাজীকরণের মাধ্যম হিসেবে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো- ব্যক্তির সমাজীকরণের প্রথম ও সর্বপ্রধান মাধ্যম হলো তার পরিবার। তিন ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক শিশুর সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যথা: ১. পিতা-মাতার সম্পর্ক, ২. পিতা-মাতা ও শিশুর সম্পর্ক ও ৩. ভাই-বোনের সম্পর্ক। পিতামাতার মধ্যে সম্পর্ক যদি ভালো হয় তবে শিশুর ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পক্ষান্তরে, পিতামাতার মধ্যে যদি দ্বন্দ্ব-কলহ লেগেই থাকে তবে শিশুর ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এমনিভাবে মাতাপিতা যদি শিশুকে অবহেলা করে তবে শিশুর মধ্যে পরনির্ভরশীল করে তুলতে পারে। পরিবারে শিশু ও তার ভাই-বোনদের ইতিবাচক সম্পর্ক তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে থাকে। একটি শিশু পারিবারিক পরিবেশে অর্জিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকার নির্দেশ ও উপদেশের মাধ্যমে শিশুর সরাসরি শিক্ষণ হয়। এখানেই শিশুর তুলনামূলক প্রকৃত মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস প্রতিযোগিতামূলক পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ, সহযোগিতামূলক মনোভাব, সামাজিক আদর্শ ইত্যাদি গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি বা শিশুর সমাজীকরণে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভাব বিস্তার করলেও পরিবারের প্রভাব সর্বাধিক। কারণ পরিবারই শিশুর সামাজিক শিক্ষার প্রথম ও সর্বপ্রথম মাধ্যম। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করে। জন্ম গ্রহণের পর থেকে শিশু তার বাবা-মা ও ভাইবোনের স্নেহ-ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এ পরিবেশেই শিশুর সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। পক্ষান্তরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশে পরিবার থেকে অর্জিত মূল্যবোধ ও মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মানুষের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা লাভ করে থাকে। পরিশেষে বলা যায় যে, শিশুর সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার ভিত্তি স্থাপিত হয় পরিবারেই। তবে সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
সমাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
দেহের গড়ন ও চেহারা আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদানসমূহের মধ্যে চেহারা বা দৈহিক গড়ন অন্যতম প্রধান উপাদান। সাধারণত দৈহিক গড়ন ও চেহারা ব্যক্তির প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ সৃষ্টির ব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে থাকে। আকর্ষণীয় মুখশ্রী ও অনুকূল দৈহিক গড়ন-এর প্রতি আমরা সবসময়ই আগ্রহান্বিত। পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন শরীর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। দৈহিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির গাত্রবর্ণ গৌর বা ফর্সা রঙের প্রতি দুর্বলতা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দেখা যায়। দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আবার সুন্দর মুখশ্রীও অন্যকে আকর্ষণ করে। সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি শারীরিক আকর্ষণ বা চেহারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আবার মেয়েরা তাদের সঙ্গী উচ্চ পদমর্যাদা বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান, সমগোত্রীয় এবং একই ধর্মাবলম্বী হলে তার প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে শারীরিক অবয়ব বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এসে যায়। সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। এজন্য চিত্রকর্মে নারী পুরুষের হৃষ্টপুষ্ট ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের দেখান হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ সমাজীকরণের কোন প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ সমাজীকরণের যে প্রক্রিয়াটি শনাক্ত করা যায় তা হলো সরাসরি শিক্ষাদান। নিম্নে প্রক্রিয়াটির ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো- সমাজীকরণ হলো ব্যক্তিক সামাজিক বা সাংস্কৃতিক জগতে দীক্ষিত করার প্রক্রিয়া। এটি মূলত একটি সামাজিক শিক্ষণ প্রক্রিয়া। এ শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরাসরি শিক্ষাদান। শিশুর সমাজীকরণে এ শিক্ষণ প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি শিক্ষাদান ও করণ শিক্ষণের সাথে এর পার্থক্য এই যে, সরাসরি শিক্ষাদানে ব্যক্তিকে কী করতে হবে তার সুনির্দিষ্ট মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া সেই নির্দেশের অনুসারী হলে তাকে প্রশংসিত বা পুরষ্কৃত করা হয়। অন্যথায়, তাকে তিরস্কৃত বা অপুরষ্কৃত করা হয়। যে কোনো নৈপুণ্য শেখার ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাদান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী, আচরণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে আমরা সচরাচর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকি। এ শিক্ষণ' প্রক্রিয়ার দ্বারা শিশু বা ব্যক্তি প্রয়োজনীয় মৌখিক নির্দেশনাবলির মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও কৃষ্টি উপযোগী রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও সামাজিক আদর্শ আচরণসমূহ শেখে। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এর প্রতি ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সেখানে একজন শিক্ষিকা তিনটি শিশুর একটিকে মৌখিক নির্দেশনা দিচ্ছে। উপরিউক্ত আলোচনা প্রতীয়মান হয় যে, দৃশ্যকল্পে সমাজীকরণের সরাসরি শিক্ষণ প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে।
সমাজীকরণে দৃশ্যকল্প-২ এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর এবং কোন চিত্রের প্রভাব অধিক বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এর চিত্র-ক এবং চিত্র- সমাজীকরণের দুটি মাধ্যম যথাক্রমে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নিম্নে সমাজীকরণের মাধ্যম হিসেবে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো- ব্যক্তির সমাজীকরণের প্রথম ও সর্বপ্রধান মাধ্যম হলো তার পরিবার। তিন ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক শিশুর সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যথা: ১. পিতা-মাতার সম্পর্ক, ২. পিতা-মাতা ও শিশুর সম্পর্ক ও ৩. ভাই-বোনের সম্পর্ক। পিতামাতার মধ্যে সম্পর্ক যদি ভালো হয় তবে শিশুর ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পক্ষান্তরে, পিতামাতার মধ্যে যদি দ্বন্দ্ব-কলহ লেগেই থাকে তবে শিশুর ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এমনিভাবে মাতাপিতা যদি শিশুকে অবহেলা করে তবে শিশুর মধ্যে পরনির্ভরশীল করে তুলতে পারে। পরিবারে শিশু ও তার ভাই-বোনদের ইতিবাচক সম্পর্ক তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে থাকে। একটি শিশু পারিবারিক পরিবেশে অর্জিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকার নির্দেশ ও উপদেশের মাধ্যমে শিশুর সরাসরি শিক্ষণ হয়। এখানেই শিশুর তুলনামূলক প্রকৃত মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস প্রতিযোগিতামূলক পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ, সহযোগিতামূলক মনোভাব, সামাজিক আদর্শ ইত্যাদি গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি বা শিশুর সমাজীকরণে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভাব বিস্তার করলেও পরিবারের প্রভাব সর্বাধিক। কারণ পরিবারই শিশুর সামাজিক শিক্ষার প্রথম ও সর্বপ্রথম মাধ্যম। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করে। জন্ম গ্রহণের পর থেকে শিশু তার বাবা-মা ও ভাইবোনের স্নেহ-ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এ পরিবেশেই শিশুর সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। পক্ষান্তরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশে পরিবার থেকে অর্জিত মূল্যবোধ ও মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মানুষের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা লাভ করে থাকে। পরিশেষে বলা যায় যে, শিশুর সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার ভিত্তি স্থাপিত হয় পরিবারেই। তবে সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ছোট রিমি মায়ের সাথে আলতো করে কথা বলতে পারে। মা রিমিকে কথা বলা শিখাচ্ছে, হাঁটা শিখাচ্ছে। বড়দের সাথে কীভাবে মিশতে হয় তাও শিখাচ্ছে। রিমির বড় ভাই কলেজ শেষ করে বিয়ে করেছে। বউয়ের সাথে খুব ভাব। এদিকে খেলার মাঠে সে মনোযোগ দিয়ে ফুটবল খেলে, সে গোল দিতে বড় ওস্তাদ। তবে সে মহাত্মা গান্ধীকে অনুসরণ করে এবং সে গান্ধী টুপিও কিনে নিয়েছে।
সমাজীকরণের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
কৃষ্টি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কৃষ্টিকে অন্য ভাষায় সংস্কৃতিও বলা চলে। মানুষ সমাজে বাস করার ফলে সমাজের কিছু নিয়ম-নীতি তাকে মেনে চলতে হয়। সমাজের প্রচলিত নিয়ম-নীতিগুলোই মূলত ঐ সমাজের কৃষ্টি। সমাজের এ প্রচলিত নিয়ম-নীতিগুলো সামাজিক উত্তরাধিকারসূত্রে চলতে থাকে তবে কিছু পরিবর্তন হয়, যা স্পষ্ট লক্ষণীয় নয়। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী কৃষ্টিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন- টেইলর এর মতে, "কৃষ্টি বলতে সমাজে বসবাসকারী মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, নিয়ম-প্রথা ও অন্যান্য বিষয়ের দক্ষতার এক সামগ্রিক রূপকে বুঝায়।"
সমাজীকরণের কোন মাধ্যমে রিমি বেড়ে উঠেছে? মাধ্যমটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় রিমি একটি শিশু। তাই সমাজীকরণের পারিবারিক মাধ্যমে সে বেড়ে উঠেছে। সমাজীকরণের প্রথম ধাপ হলো তার পরিবার। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। এমনি একটি পরিবেশ থেকে রিমির সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। শিশু পিতা-মাতার সাথে নিজেকে শনাক্ত করতে চায়। এ কারণে পিতামাতার আচরণকেই সে মেনে নেয়। মায়ের কথা বলা, খাদ্যগ্রহণ, কাপড়-চোপড় নির্বাচন প্রভৃতি সে প্রতিনিয়ত দেখতে পায়। তাই শিশু তার মাতা ও পিতাকে সমাজীকরণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পেয়ে থাকে। পিতামাতার সাথে শিশুর সম্পর্ক খুবই মধুর হওয়া দরকার। পিতা-মাতা তার সন্তানকে সব সময় আদর করেন। পিতা- মাতা ও শিশুর সম্পর্ক যদি ভালো না হয়, তাহলে শিশুর সমাজীকরণ হয় না। শিশুর প্রতি কঠোর না হওয়া বা 'লাই' না দেওয়া থেকে বিরত থেকে তাদের প্রতি পিতা-মাতার আচরণ সুষম হওয়া দরকার।আবার, রিমির পবিবারের নিকটতম সদস্য হলো তার বড় ভাই। রিমির ওপর যার বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কারণ, ভাই-বোনদের সংস্পর্শের মধ্য দিয়েই রিমির প্রাথমিক পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন উপযোজনমূলক মনোভাব তৈরি হবে ও সমাজীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রিমি পরিবারে থেকে বড়দের সাথে কিভাবে মিশতে হয়, কিভাবে চলতে হয় প্রভৃতি সমাজীকরণের দিকগুলো শিখে নেবে।
রিমির বড় ভাইয়ের আচরণে সমাজীকরণের কোন কোন প্রক্রিয়া কাজ করছে? এর সাথে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

উত্তর

রিমির বড় ভাইয়ের আচরণে সমাজীকরণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। যার একটি হলো ভূমিকা শিক্ষণ এবং অপরটি হলো একাত্মীভবন। নিচে প্রক্রিয়া দুটি আলোচনা করা হলো- সমাজীকরণে ভূমিকা শিক্ষণ: রিমির বড় ভাই খেলার মাঠে একজন খেলোয়াড়। আবার বউয়ের সাথে খুব ভাব। সে গান্ধী টুপি পরে। সাধারণত সমাজে বাস করতে গেলে আমাদেরকে এভাবেই বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করতে হয়। যখন কেউ পরিবারে বাস করে তখন সে ছোটদের আদর, বড়দের মান্য করে। একজন অফিস কর্মচারী যখন অফিসে যায় তখন তিনি হয়ে ওঠেন কর্মকর্তা। সে তার বসের কথা শোনে ও অধঃস্তন কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়। আবার সমবয়সীদের সাথে যখন মেশেন, তখন তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করেন। আবার ফুটবল খেলার সময় সে ফুটবল নিয়ে সবাইকে অতিক্রম করে কীভাবে গোল দেওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন, সে অবস্থায় তাকে তখনকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। তাই সমাজীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ প্রক্রিয়া। একাত্মীভাবন: একাত্মীভাবন হলো কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকে নিজের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে। একাত্মীভবনে অন্যের আচরণকে গভীর ও স্থায়ীভাবে গ্রহণ করাকে বোঝানো হয়। যে পিতামাতা শিশুকে আদর-যত্ন করে, খাবার দেয় ও তার সাথে মিষ্টি করে কথা বলে, ঐ শিশুও পরবর্তীকালে তার মা-বাবার মতো আদর করবে ও কথাবার্তা বলবে। আর একাত্মীভবনের কারণেই রিমির বড় ভাই গান্ধী টুপি পরে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ছোট রিমি মায়ের সাথে আলতো করে কথা বলতে পারে। মা রিমিকে কথা বলা শিখাচ্ছে, হাঁটা শিখাচ্ছে। বড়দের সাথে কীভাবে মিশতে হয় তাও শিখাচ্ছে। রিমির বড় ভাই কলেজ শেষ করে বিয়ে করেছে। বউয়ের সাথে খুব ভাব। এদিকে খেলার মাঠে সে মনোযোগ দিয়ে ফুটবল খেলে, সে গোল দিতে বড় ওস্তাদ। তবে সে মহাত্মা গান্ধীকে অনুসরণ করে এবং সে গান্ধী টুপিও কিনে নিয়েছে।
সমাজীকরণের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
কৃষ্টি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কৃষ্টিকে অন্য ভাষায় সংস্কৃতিও বলা চলে। মানুষ সমাজে বাস করার ফলে সমাজের কিছু নিয়ম-নীতি তাকে মেনে চলতে হয়। সমাজের প্রচলিত নিয়ম-নীতিগুলোই মূলত ঐ সমাজের কৃষ্টি। সমাজের এ প্রচলিত নিয়ম-নীতিগুলো সামাজিক উত্তরাধিকারসূত্রে চলতে থাকে তবে কিছু পরিবর্তন হয়, যা স্পষ্ট লক্ষণীয় নয়। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী কৃষ্টিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন- টেইলর এর মতে, "কৃষ্টি বলতে সমাজে বসবাসকারী মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, নিয়ম-প্রথা ও অন্যান্য বিষয়ের দক্ষতার এক সামগ্রিক রূপকে বুঝায়।"
সমাজীকরণের কোন মাধ্যমে রিমি বেড়ে উঠেছে? মাধ্যমটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় রিমি একটি শিশু। তাই সমাজীকরণের পারিবারিক মাধ্যমে সে বেড়ে উঠেছে। সমাজীকরণের প্রথম ধাপ হলো তার পরিবার। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। এমনি একটি পরিবেশ থেকে রিমির সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। শিশু পিতা-মাতার সাথে নিজেকে শনাক্ত করতে চায়। এ কারণে পিতামাতার আচরণকেই সে মেনে নেয়। মায়ের কথা বলা, খাদ্যগ্রহণ, কাপড়-চোপড় নির্বাচন প্রভৃতি সে প্রতিনিয়ত দেখতে পায়। তাই শিশু তার মাতা ও পিতাকে সমাজীকরণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পেয়ে থাকে। পিতামাতার সাথে শিশুর সম্পর্ক খুবই মধুর হওয়া দরকার। পিতা-মাতা তার সন্তানকে সব সময় আদর করেন। পিতা- মাতা ও শিশুর সম্পর্ক যদি ভালো না হয়, তাহলে শিশুর সমাজীকরণ হয় না। শিশুর প্রতি কঠোর না হওয়া বা 'লাই' না দেওয়া থেকে বিরত থেকে তাদের প্রতি পিতা-মাতার আচরণ সুষম হওয়া দরকার।আবার, রিমির পবিবারের নিকটতম সদস্য হলো তার বড় ভাই। রিমির ওপর যার বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কারণ, ভাই-বোনদের সংস্পর্শের মধ্য দিয়েই রিমির প্রাথমিক পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন উপযোজনমূলক মনোভাব তৈরি হবে ও সমাজীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রিমি পরিবারে থেকে বড়দের সাথে কিভাবে মিশতে হয়, কিভাবে চলতে হয় প্রভৃতি সমাজীকরণের দিকগুলো শিখে নেবে।
রিমির বড় ভাইয়ের আচরণে সমাজীকরণের কোন কোন প্রক্রিয়া কাজ করছে? এর সাথে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

উত্তর

রিমির বড় ভাইয়ের আচরণে সমাজীকরণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। যার একটি হলো ভূমিকা শিক্ষণ এবং অপরটি হলো একাত্মীভবন। নিচে প্রক্রিয়া দুটি আলোচনা করা হলো- সমাজীকরণে ভূমিকা শিক্ষণ: রিমির বড় ভাই খেলার মাঠে একজন খেলোয়াড়। আবার বউয়ের সাথে খুব ভাব। সে গান্ধী টুপি পরে। সাধারণত সমাজে বাস করতে গেলে আমাদেরকে এভাবেই বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করতে হয়। যখন কেউ পরিবারে বাস করে তখন সে ছোটদের আদর, বড়দের মান্য করে। একজন অফিস কর্মচারী যখন অফিসে যায় তখন তিনি হয়ে ওঠেন কর্মকর্তা। সে তার বসের কথা শোনে ও অধঃস্তন কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়। আবার সমবয়সীদের সাথে যখন মেশেন, তখন তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করেন। আবার ফুটবল খেলার সময় সে ফুটবল নিয়ে সবাইকে অতিক্রম করে কীভাবে গোল দেওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন, সে অবস্থায় তাকে তখনকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। তাই সমাজীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ প্রক্রিয়া। একাত্মীভাবন: একাত্মীভাবন হলো কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকে নিজের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে। একাত্মীভবনে অন্যের আচরণকে গভীর ও স্থায়ীভাবে গ্রহণ করাকে বোঝানো হয়। যে পিতামাতা শিশুকে আদর-যত্ন করে, খাবার দেয় ও তার সাথে মিষ্টি করে কথা বলে, ঐ শিশুও পরবর্তীকালে তার মা-বাবার মতো আদর করবে ও কথাবার্তা বলবে। আর একাত্মীভবনের কারণেই রিমির বড় ভাই গান্ধী টুপি পরে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিরুপমা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে না গেলে তার ভালো লাগে না। সে তার শিক্ষকদের প্রতি খুবই অমায়িক। সে তার শিক্ষকদের নির্দেশনা ও উপদেশ মেনে চলে। তার প্রিয় শিক্ষক শরীফা আপা তিনি এখনও ভালো ব্যাডমিন্টন খেলেন। আবার তিনি রাজনীতিও করেন। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খুব আদর করেন। আবার শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথে তার মধুর সম্পর্ক। তাই একদিন নিরুপমা তার আপাকে এসব কীভাবে করেন তা জিজ্ঞাসা করল।
সামঞ্জস্যতা কী?

উত্তর

সামঞ্জস্যতা হলো এমন ধরনের কার্যপ্রক্রিয়া যা শত্রুভাবাপন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে বোঝাপড়া নির্দেশ করে।
নৈকট্য কীভাবে আন্তঃব্যক্তিক উপাদান হিসেবে কাজ করে?

উত্তর

নৈকট্য আন্তঃব্যক্তিক উপাদান হিসাবে কাজ করে। কাছাকাছি থাকলে অর্থাৎ নৈকট্যে থাকলে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ বাড়ে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে আন্তঃক্রিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পারস্পরিক পছন্দের মাত্রাও বেড়ে যায়। একই সাথে পছন্দের মাত্রা বেড়ে গেলে একে অপরের সাথে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে। দেখা গেছে যারা একই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে বা একই কাপড় কাচার ঘর ব্যবহার করে তাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বেশি বন্ধুত্ব হতে দেখা যায়। একই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার কারণে তাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ-এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে তারা একে অন্যকে বেশি জানতে পারে। আবার একই স্থানে কাপড় ধুতে যাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে সামাজিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হয়- এ জন্যে তাদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ গড়ে ওঠে।
নিরুপমার জীবনে সামাজিকীকরণের কোন মাধ্যমটি কাজ করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে নিরুপমার জীবনে সামাজিকীকরণের 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় নামক মাধ্যমটি কাজ করছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- পারিবারিক পরিবেশের বাইরে শিশুদের সমাজিকীকরণ ঘটে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর। । বিদ্যালয়ে আসার ফলে পারিবারিক স্নেহ-মমতা হতে বঞ্চিত হলেও তারা বিদ্যালয়ের আনন্দ-অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে পড়ে। তারা বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিশুদের প্রতি তারা সহনশীল হয় এবং দলগত আচরণ তারা মেনে চলে। এ সময় শিশুরা তাদের শিক্ষক-শিক্ষয়ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক- শিক্ষিকার নির্দেশনা ও উপদেশনার মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি শিক্ষণ লাভ করে। শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে অভিপ্রেত আচরণ, শৃঙ্খলা, নিয়মনিষ্ঠা প্রভৃতি সামাজিক শিক্ষণ অর্জিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকার আচরণের মাধ্যমে শিশুর সামাজিক আচরণ গড়ে উঠে।
শরীফা আপার জীবনে কোন সমাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ক্রিয়াশীল। তোমার নিজের ভাষায় তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শরীফা আপার জীবনে সমাজিকীকরণের যে প্রক্রিয়াটি। ক্রিয়াশীল তা হলো ভূমিকা শিক্ষণ। কেননা শরীফা আপা যখন যে অবস্থানে থাকছেন সেই অবস্থানে সে নিজেকে সুন্দরভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন। তিনি একাধারে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শিক্ষিকা, খেলার মাঠে খেলোয়ার, রাজনীতির ময়দানে একজন সক্রিয় রাজনীতিবীদ, আবার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে একজন সফল গৃহিনী। নিচে শরীফা আপার জীবনে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করা হলো- কোনো ব্যক্তি তার নিজের জন্য অনেক কিছু করছে। কিন্তু সে তার নিজের জীবন বাদ দিয়ে যখন অন্য কোনো ব্যক্তি আচরণ অনুভব করে তখন তা হয়ে উঠে অর্থবহ। আমরা একেক জন একটি পরিবারের সদস্য, কোনো অফিসের কর্মকর্তা, কোনো সংগঠনের একজন সদস্য, সমবয়সীদের সাথে একজন বন্ধু ও খেলার মাঠে একজন খেলোয়াড়। সমাজে বাস করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করতে হয়। কেউ যখন পরিবারে বাস করে তখন সে ছোটদের আদর, বড়দের মানা করে, আত্মীয়-স্বজনদের আদর করে। সে লোক যখন অফিসে যায় তখন সে হয়ে উঠে কর্মকর্তা। সে তার বসের কথা শোনে ও নিম্নতর কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেয়। আর সে যখন সমবয়সীদের সাথে মেশে, তখন তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করে। আবার ফুটবল খেলার মাঠে সে ফুটবল নিয়ে সবাইকে অতিক্রম করে কী করে গোল দেওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন, সেই অবস্থায় তাকে উপযুক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। তাই সমাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ প্রক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিরুপমা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে না গেলে তার ভালো লাগে না। সে তার শিক্ষকদের প্রতি খুবই অমায়িক। সে তার শিক্ষকদের নির্দেশনা ও উপদেশ মেনে চলে। তার প্রিয় শিক্ষক শরীফা আপা তিনি এখনও ভালো ব্যাডমিন্টন খেলেন। আবার তিনি রাজনীতিও করেন। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খুব আদর করেন। আবার শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথে তার মধুর সম্পর্ক। তাই একদিন নিরুপমা তার আপাকে এসব কীভাবে করেন তা জিজ্ঞাসা করল।
সামঞ্জস্যতা কী?

উত্তর

সামঞ্জস্যতা হলো এমন ধরনের কার্যপ্রক্রিয়া যা শত্রুভাবাপন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে বোঝাপড়া নির্দেশ করে।
নৈকট্য কীভাবে আন্তঃব্যক্তিক উপাদান হিসেবে কাজ করে?

উত্তর

নৈকট্য আন্তঃব্যক্তিক উপাদান হিসাবে কাজ করে। কাছাকাছি থাকলে অর্থাৎ নৈকট্যে থাকলে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ বাড়ে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে আন্তঃক্রিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পারস্পরিক পছন্দের মাত্রাও বেড়ে যায়। একই সাথে পছন্দের মাত্রা বেড়ে গেলে একে অপরের সাথে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে। দেখা গেছে যারা একই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে বা একই কাপড় কাচার ঘর ব্যবহার করে তাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বেশি বন্ধুত্ব হতে দেখা যায়। একই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার কারণে তাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ-এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে তারা একে অন্যকে বেশি জানতে পারে। আবার একই স্থানে কাপড় ধুতে যাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে সামাজিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হয়- এ জন্যে তাদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ গড়ে ওঠে।
নিরুপমার জীবনে সামাজিকীকরণের কোন মাধ্যমটি কাজ করছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে নিরুপমার জীবনে সামাজিকীকরণের 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় নামক মাধ্যমটি কাজ করছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- পারিবারিক পরিবেশের বাইরে শিশুদের সমাজিকীকরণ ঘটে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর। । বিদ্যালয়ে আসার ফলে পারিবারিক স্নেহ-মমতা হতে বঞ্চিত হলেও তারা বিদ্যালয়ের আনন্দ-অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে পড়ে। তারা বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিশুদের প্রতি তারা সহনশীল হয় এবং দলগত আচরণ তারা মেনে চলে। এ সময় শিশুরা তাদের শিক্ষক-শিক্ষয়ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক- শিক্ষিকার নির্দেশনা ও উপদেশনার মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি শিক্ষণ লাভ করে। শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে অভিপ্রেত আচরণ, শৃঙ্খলা, নিয়মনিষ্ঠা প্রভৃতি সামাজিক শিক্ষণ অর্জিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকার আচরণের মাধ্যমে শিশুর সামাজিক আচরণ গড়ে উঠে।
শরীফা আপার জীবনে কোন সমাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ক্রিয়াশীল। তোমার নিজের ভাষায় তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শরীফা আপার জীবনে সমাজিকীকরণের যে প্রক্রিয়াটি। ক্রিয়াশীল তা হলো ভূমিকা শিক্ষণ। কেননা শরীফা আপা যখন যে অবস্থানে থাকছেন সেই অবস্থানে সে নিজেকে সুন্দরভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন। তিনি একাধারে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শিক্ষিকা, খেলার মাঠে খেলোয়ার, রাজনীতির ময়দানে একজন সক্রিয় রাজনীতিবীদ, আবার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে একজন সফল গৃহিনী। নিচে শরীফা আপার জীবনে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করা হলো- কোনো ব্যক্তি তার নিজের জন্য অনেক কিছু করছে। কিন্তু সে তার নিজের জীবন বাদ দিয়ে যখন অন্য কোনো ব্যক্তি আচরণ অনুভব করে তখন তা হয়ে উঠে অর্থবহ। আমরা একেক জন একটি পরিবারের সদস্য, কোনো অফিসের কর্মকর্তা, কোনো সংগঠনের একজন সদস্য, সমবয়সীদের সাথে একজন বন্ধু ও খেলার মাঠে একজন খেলোয়াড়। সমাজে বাস করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করতে হয়। কেউ যখন পরিবারে বাস করে তখন সে ছোটদের আদর, বড়দের মানা করে, আত্মীয়-স্বজনদের আদর করে। সে লোক যখন অফিসে যায় তখন সে হয়ে উঠে কর্মকর্তা। সে তার বসের কথা শোনে ও নিম্নতর কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেয়। আর সে যখন সমবয়সীদের সাথে মেশে, তখন তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করে। আবার ফুটবল খেলার মাঠে সে ফুটবল নিয়ে সবাইকে অতিক্রম করে কী করে গোল দেওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন, সেই অবস্থায় তাকে উপযুক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। তাই সমাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ প্রক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুরাদ সাহেবের একমাত্র ছেলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সমাজের ধনী-গরিব সবার সাথে বিনয়ের সাথে মেলামেশা করেন। সমাজের মানুষও তাকে নিতান্ত আপনজন ভাবে ও শ্রদ্ধা করে। তিনি তার ছেলেকে ছোট সময় থেকে তিলে তিলে বড় করে তুলতে তার পরিশ্রমের কমতি ছিল না। তিনি সেই ভাষা শিখানো থেকে শুরু করে ছেলের মধ্যে বিনয় ও দানশীলতা সৃষ্টি করতে কতই না কৌশল অবলম্বন করেছেন।
যৌন হয়রানি কী?

উত্তর

যৌন হয়রানি হলো এমন এক ধরনের আচরণ যেখানে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রবৃত্তি বা কামনা দ্বারা নিপীড়িত বা লাঞ্ছিত হয়।
দৈহিক গড়ন ও চেহারা কীভাবে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদান হিসেবে কাজ করে?

উত্তর

দৈহিক গড়ন ও চেহারা যেভাবে আন্তঃবাস্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদান হিসেবে কাজ করে তা নিচে উল্লেখ করা হলো- আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদানসমূহের মধ্যে চেহারা বা দৈহিক গড়ন অন্যতম প্রধান উপাদান। সাধারণত দৈহিক গড়ন ও চেহারা ব্যক্তির প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ সৃষ্টির ব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে থাকে। আকর্ষণীয় মুখশ্রী ও অনুকূল দৈহিক গড়ন-এর প্রতি আমরা সবসময়ই আগ্রহান্বিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শরীর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। দৈহিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির গাত্রবর্ণ গৌর বা ফর্সা রঙের প্রতি দুর্বলতা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দেখা যায়। দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আবার সুন্দর মুখশ্রীও অন্যকে আকর্ষণ করে। সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি শারীরিক আকর্ষণ বা চেহারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আবার মেয়েরা তাদের সঙ্গী উচ্চ পদমর্যাদা বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান, সমগোত্রীয় এবং একই ধর্মাবলম্বী হলে তার প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে শারীরিক অবয়ব বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এসে যায়। সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। এজন্য চিত্রকর্মে নারী পুরুষের হৃষ্টপুষ্ট ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের দেখান হয়।
উদ্দীপকে মুরাদ সাহেবের ছেলে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুরাদ সাহেবের ছেলে সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। নিচে সমাজীকরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো- সমাজীকরণ কথাটি মনোবিজ্ঞানী, নৃ-বিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানিগণ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছেন। সমাজীকরণ বলতে আমরা বুঝি, "ব্যক্তি যে সমাজে বাস করে সেই সমাজের লোকাচার, আদর্শ, নিয়মকানুন, সংস্কৃতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য শিক্ষা ও আয়ত্ত করা। এর সঙ্গে এমন কতকগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভ্যাস অর্জন করা যার সাহায্যে ব্যক্তি সমাজের সভ্য হিসেবে নিজের যথার্থ ভূমিকা গ্রহণ করতে সমর্থ হয়।" সেকর্ড ও ব্যাকম্যান, ১৯৬৪ সালে বলেন, "সমাজীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তিত হয়ে ঐ সমাজে বসবাসকারী অন্য ব্যক্তির সাথে সংঘটিত আচরণের সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।" মাসেন, কঙ্গার ও কাগান, ১৯৭৪ সালে বলেন "সমাজীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজের পরিবার ও কৃষ্টির উপযোগী ধারা, বিশ্বাস, আদর্শমান ও প্রেষণাবলি শিক্ষা গ্রহণ করে।" সংক্ষেপে বলতে গেলে, সমাজীকরণ একটি শিক্ষণ প্রক্রিয়া। যেখানে ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক আন্তঃক্রিয়া ঘটে, সেখানেই ব্যক্তিকে কিছু না কিছু সামঞ্জস্য বিধান করতে, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে তার সমাজীকরণ ঘটে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
উদ্দীপকে ছেলের ক্ষেত্রে শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলোর অবদান বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুরাদের ছেলে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার পিছনে শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলো যথার্থ অবদান রেখেছে। নিচে, শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলোর অবদান বিশ্লেষণ করা হলো- ১. করণ শিক্ষকরণ শিক্ষণের মূল কথা হলো- যখন কোনো প্রতিক্রিয়ায় বলবৃদ্ধি ঘটে তখন ঐ প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা বেড়ে যায়। বলবর্ধক ইতিবাচক ও নেতিবাচক হতে পারে। পুরস্কৃত করা হলে তা ইতিবাচক এবং তিরস্কার করা হলে তা নেতিবাচক বলবর্ধক। যা সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে। ২. সরাসরি শিক্ষাদান: শিশুর সমাজীকরণে সরাসরি শিক্ষাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কি করতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি আমরা প্রয়োগ করে থাকি। ৩. প্রাসঙ্গিক শিক্ষন প্রসঙ্গক্রমেও আমরা অনেক কিছু শিখে থাকি যা সমাজিকীকরণে ভূমিকা পালন করে। ৪. ভূমিকা শিক্ষণ সমাজে বাস করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন সে অবস্থায় তাকে উপযুক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। তাই সমাজীকরণে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৫. একাত্মীভবন: কোনো ব্যক্তি অন্যকোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি নিজের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে যাকে বলা হয় একাত্মীভবন। ৬. পর্যবেক্ষণগত শিক্ষণ শিশুরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষণ আয়ত্ত করে। যা সমাজীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুরাদ সাহেবের একমাত্র ছেলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সমাজের ধনী-গরিব সবার সাথে বিনয়ের সাথে মেলামেশা করেন। সমাজের মানুষও তাকে নিতান্ত আপনজন ভাবে ও শ্রদ্ধা করে। তিনি তার ছেলেকে ছোট সময় থেকে তিলে তিলে বড় করে তুলতে তার পরিশ্রমের কমতি ছিল না। তিনি সেই ভাষা শিখানো থেকে শুরু করে ছেলের মধ্যে বিনয় ও দানশীলতা সৃষ্টি করতে কতই না কৌশল অবলম্বন করেছেন।
যৌন হয়রানি কী?

উত্তর

যৌন হয়রানি হলো এমন এক ধরনের আচরণ যেখানে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রবৃত্তি বা কামনা দ্বারা নিপীড়িত বা লাঞ্ছিত হয়।
দৈহিক গড়ন ও চেহারা কীভাবে আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদান হিসেবে কাজ করে?

উত্তর

দৈহিক গড়ন ও চেহারা যেভাবে আন্তঃবাস্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদান হিসেবে কাজ করে তা নিচে উল্লেখ করা হলো- আন্তঃব্যক্তিক আকর্ষণ নির্ণয়কারী উপাদানসমূহের মধ্যে চেহারা বা দৈহিক গড়ন অন্যতম প্রধান উপাদান। সাধারণত দৈহিক গড়ন ও চেহারা ব্যক্তির প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ সৃষ্টির ব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে থাকে। আকর্ষণীয় মুখশ্রী ও অনুকূল দৈহিক গড়ন-এর প্রতি আমরা সবসময়ই আগ্রহান্বিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শরীর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। দৈহিক আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির গাত্রবর্ণ গৌর বা ফর্সা রঙের প্রতি দুর্বলতা অধিকাংশ লোকের মধ্যে দেখা যায়। দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। আবার সুন্দর মুখশ্রীও অন্যকে আকর্ষণ করে। সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি শারীরিক আকর্ষণ বা চেহারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আবার মেয়েরা তাদের সঙ্গী উচ্চ পদমর্যাদা বিশিষ্ট, বুদ্ধিমান, সমগোত্রীয় এবং একই ধর্মাবলম্বী হলে তার প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে শারীরিক অবয়ব বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এসে যায়। সুঠাম দেহের অধিকারী হলে ব্যক্তি সহজেই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। এজন্য চিত্রকর্মে নারী পুরুষের হৃষ্টপুষ্ট ও সুঠাম দেহের অধিকারীদের দেখান হয়।
উদ্দীপকে মুরাদ সাহেবের ছেলে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুরাদ সাহেবের ছেলে সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। নিচে সমাজীকরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো- সমাজীকরণ কথাটি মনোবিজ্ঞানী, নৃ-বিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানিগণ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছেন। সমাজীকরণ বলতে আমরা বুঝি, "ব্যক্তি যে সমাজে বাস করে সেই সমাজের লোকাচার, আদর্শ, নিয়মকানুন, সংস্কৃতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য শিক্ষা ও আয়ত্ত করা। এর সঙ্গে এমন কতকগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভ্যাস অর্জন করা যার সাহায্যে ব্যক্তি সমাজের সভ্য হিসেবে নিজের যথার্থ ভূমিকা গ্রহণ করতে সমর্থ হয়।" সেকর্ড ও ব্যাকম্যান, ১৯৬৪ সালে বলেন, "সমাজীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তিত হয়ে ঐ সমাজে বসবাসকারী অন্য ব্যক্তির সাথে সংঘটিত আচরণের সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।" মাসেন, কঙ্গার ও কাগান, ১৯৭৪ সালে বলেন "সমাজীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজের পরিবার ও কৃষ্টির উপযোগী ধারা, বিশ্বাস, আদর্শমান ও প্রেষণাবলি শিক্ষা গ্রহণ করে।" সংক্ষেপে বলতে গেলে, সমাজীকরণ একটি শিক্ষণ প্রক্রিয়া। যেখানে ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক আন্তঃক্রিয়া ঘটে, সেখানেই ব্যক্তিকে কিছু না কিছু সামঞ্জস্য বিধান করতে, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে তার সমাজীকরণ ঘটে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
উদ্দীপকে ছেলের ক্ষেত্রে শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলোর অবদান বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুরাদের ছেলে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার পিছনে শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলো যথার্থ অবদান রেখেছে। নিচে, শিক্ষণের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলোর অবদান বিশ্লেষণ করা হলো- ১. করণ শিক্ষকরণ শিক্ষণের মূল কথা হলো- যখন কোনো প্রতিক্রিয়ায় বলবৃদ্ধি ঘটে তখন ঐ প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা বেড়ে যায়। বলবর্ধক ইতিবাচক ও নেতিবাচক হতে পারে। পুরস্কৃত করা হলে তা ইতিবাচক এবং তিরস্কার করা হলে তা নেতিবাচক বলবর্ধক। যা সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে। ২. সরাসরি শিক্ষাদান: শিশুর সমাজীকরণে সরাসরি শিক্ষাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কি করতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি আমরা প্রয়োগ করে থাকি। ৩. প্রাসঙ্গিক শিক্ষন প্রসঙ্গক্রমেও আমরা অনেক কিছু শিখে থাকি যা সমাজিকীকরণে ভূমিকা পালন করে। ৪. ভূমিকা শিক্ষণ সমাজে বাস করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। এমনি করে একজন ব্যক্তি যে অবস্থায় থাক না কেন সে অবস্থায় তাকে উপযুক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। তাই সমাজীকরণে ভূমিকা শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৫. একাত্মীভবন: কোনো ব্যক্তি অন্যকোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি নিজের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে যাকে বলা হয় একাত্মীভবন। ৬. পর্যবেক্ষণগত শিক্ষণ শিশুরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষণ আয়ত্ত করে। যা সমাজীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শায়েলা পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। তার বয়স চার। সে মায়ের মতো। করে রান্নার খেলা করে, কাপড় পরিধান করে ও অন্যান্য আচরণ করে। শারমিনের খেলার সাথী আদিবা। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শারমিনদের। বাসায় আসে আদিবা। আধো আধো বুলিতে সে একটি নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারণ করলে সকলেই হেসে উঠে। এক মাস পর দেখা গেল সে ঐ শব্দটি আবার উচ্চারণ করছে। আবিদার বাবা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে এ ধরনের কথা না বলতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয় এবং শব্দটি না বলার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় পুরস্কার প্রদান করেন। এক সময় দেখা গেল আদিবা ওই শব্দটি আর বলেন না।
সামাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে বা খাপ খাওয়ায় তাই সমাজীকরণ।
সমাজীকরণের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিকরণের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- পরিবার নামক একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। যার নাম বিদ্যালয়। বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের বাইরের সদস্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পাঠকক্ষের অন্যান্য সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সবকিছুই শিশুকে সমাজীকরণে সহায়তা করে। পারিবারিক স্নেহ-মমতা ছাড়াও বিদ্যালয়ে আসার ফলে শিশু বিদ্যালয়ের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ভালোবাসার বন্ধনে আবন্ধ হয়। তখন শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এবং কাজ করার সময় সম্পর্কেও সচেতন হয়।
শারমিনের ক্ষেত্রে সমাজীকরণের কোন মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উদ্দীপকে শারমিনের ক্ষেত্রে সমাজীকরণের 'পরিবার' নামক মাধ্যমের অংশ অর্থাৎ 'পিতা-মাতার সম্পর্ক' প্রভাব বিদ্যমান। নিচে। ব্যাখ্যা করা হলো- শিশুর সমাজীকরণের প্রথম ধাপ হলো পরিবার। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করে। জন্মগ্রহণের পর থেকে শিশু তার বাবা-মা, ভাইবোন, স্নেহ-ভালোবাসা প্রভৃতির মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এমনি একটি পরিবেশ থেকে শিশুর সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। তিন ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক শিশুর সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে। যথা- পিতা-মাতার সম্পর্ক; পিতা-মাতা ও শিশুর সম্পর্ক এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক। শিশু পিতামাতার সাথে নিজেকে শনাক্ত করতে চায়। তাই পিতামাতার আচরণকেই সে মেনে নেয়। মায়ের খাদ্যগ্রহণ, কাপড়-চোপড় নির্বাচন প্রভৃতি পায়। বিভিন্ন চাহিদা নিবৃত্তি হিসেবে শিশু তার পিতাকে পায়। তাই শিশু তার মাতা ও পিতাকে সমাজীকরণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পেয়ে থাকে। কিন্তু পিতা ও মাতার সম্পর্ক যদি মধুর না হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ঝগড়াটি লেগেই থাকে ঐ সব শিশুর পিতামাতাকে অনুসরণ করে। তারা ধীরে ধীরে খারাপ আচরণ ও অসামাজিক কার্যকলাপ করে বেড়ায়। পিতামাতার মধুর সম্পর্কই শিশুকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়া দুটি হলো প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ ও সরাসরি শিক্ষাদান। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ: এমন অনেক কিছু আমরা সামাজিক পরিবেশ থেকে প্রেষণা ব্যতীত শিখে থাকি যা আমাদের মা-বাবা বা অন্য কেউ (যারা সমাজীকরণ মাধ্যম হিসাবে রয়েছেন) অনুমোদন করেন না। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক, একটি শিশু তার আধো আধো বুলিতে একটি নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারণ করল। তার এ আধো আধো বুলিতে এমন কিছু ছিল যাতে আশেপাশের বড়রা সবাই হেসে উঠল। এর ফলে শিশুটি পরবর্তীকালে বড়দের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে ঐ শব্দটি পুনরায় উচ্চারণ করতে পারে যাতে করে সে পুরস্কৃত হতে পারে। সরাসরি শিক্ষাদান: শিশুর সমাজীকরণে সরাসরি শিক্ষাদান আমরা সব সময় করে থাকি। কারণ শিক্ষণের সাথে এর পার্থক্য এই যে, সরাসরি শিক্ষাদানে ব্যক্তিকে কী করতে হবে তার সুনির্দিষ্ট মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া সেই নির্দেশের অনুগামী হলে তাকে প্রশংসিত বা পুরষ্কৃত করা হয়। অন্যথায় তাকে তিরস্কৃত বা অপুরষ্কৃত করা হয়। যে কোনো নৈপুণ্য শেখার ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাদান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আচরণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে আমরা সচরাচর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকি। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে "আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।" - উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শায়েলা পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। তার বয়স চার। সে মায়ের মতো। করে রান্নার খেলা করে, কাপড় পরিধান করে ও অন্যান্য আচরণ করে। শারমিনের খেলার সাথী আদিবা। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শারমিনদের। বাসায় আসে আদিবা। আধো আধো বুলিতে সে একটি নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারণ করলে সকলেই হেসে উঠে। এক মাস পর দেখা গেল সে ঐ শব্দটি আবার উচ্চারণ করছে। আবিদার বাবা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে এ ধরনের কথা না বলতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয় এবং শব্দটি না বলার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় পুরস্কার প্রদান করেন। এক সময় দেখা গেল আদিবা ওই শব্দটি আর বলেন না।
সামাজীকরণ কী?

উত্তর

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে বা খাপ খাওয়ায় তাই সমাজীকরণ।
সমাজীকরণের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিকরণের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- পরিবার নামক একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। যার নাম বিদ্যালয়। বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের বাইরের সদস্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পাঠকক্ষের অন্যান্য সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সবকিছুই শিশুকে সমাজীকরণে সহায়তা করে। পারিবারিক স্নেহ-মমতা ছাড়াও বিদ্যালয়ে আসার ফলে শিশু বিদ্যালয়ের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ভালোবাসার বন্ধনে আবন্ধ হয়। তখন শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এবং কাজ করার সময় সম্পর্কেও সচেতন হয়।
শারমিনের ক্ষেত্রে সমাজীকরণের কোন মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর

উত্তর

উদ্দীপকে শারমিনের ক্ষেত্রে সমাজীকরণের 'পরিবার' নামক মাধ্যমের অংশ অর্থাৎ 'পিতা-মাতার সম্পর্ক' প্রভাব বিদ্যমান। নিচে। ব্যাখ্যা করা হলো- শিশুর সমাজীকরণের প্রথম ধাপ হলো পরিবার। পরিবার থেকে শিশু তার প্রথম জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করে। জন্মগ্রহণের পর থেকে শিশু তার বাবা-মা, ভাইবোন, স্নেহ-ভালোবাসা প্রভৃতির মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এমনি একটি পরিবেশ থেকে শিশুর সামাজিক শিক্ষণ শুরু হয়। তিন ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক শিশুর সমাজীকরণে প্রভাব বিস্তার করে। যথা- পিতা-মাতার সম্পর্ক; পিতা-মাতা ও শিশুর সম্পর্ক এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক। শিশু পিতামাতার সাথে নিজেকে শনাক্ত করতে চায়। তাই পিতামাতার আচরণকেই সে মেনে নেয়। মায়ের খাদ্যগ্রহণ, কাপড়-চোপড় নির্বাচন প্রভৃতি পায়। বিভিন্ন চাহিদা নিবৃত্তি হিসেবে শিশু তার পিতাকে পায়। তাই শিশু তার মাতা ও পিতাকে সমাজীকরণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পেয়ে থাকে। কিন্তু পিতা ও মাতার সম্পর্ক যদি মধুর না হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ঝগড়াটি লেগেই থাকে ঐ সব শিশুর পিতামাতাকে অনুসরণ করে। তারা ধীরে ধীরে খারাপ আচরণ ও অসামাজিক কার্যকলাপ করে বেড়ায়। পিতামাতার মধুর সম্পর্কই শিশুকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়া দুটি হলো প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ ও সরাসরি শিক্ষাদান। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ: এমন অনেক কিছু আমরা সামাজিক পরিবেশ থেকে প্রেষণা ব্যতীত শিখে থাকি যা আমাদের মা-বাবা বা অন্য কেউ (যারা সমাজীকরণ মাধ্যম হিসাবে রয়েছেন) অনুমোদন করেন না। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক, একটি শিশু তার আধো আধো বুলিতে একটি নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারণ করল। তার এ আধো আধো বুলিতে এমন কিছু ছিল যাতে আশেপাশের বড়রা সবাই হেসে উঠল। এর ফলে শিশুটি পরবর্তীকালে বড়দের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে ঐ শব্দটি পুনরায় উচ্চারণ করতে পারে যাতে করে সে পুরস্কৃত হতে পারে। সরাসরি শিক্ষাদান: শিশুর সমাজীকরণে সরাসরি শিক্ষাদান আমরা সব সময় করে থাকি। কারণ শিক্ষণের সাথে এর পার্থক্য এই যে, সরাসরি শিক্ষাদানে ব্যক্তিকে কী করতে হবে তার সুনির্দিষ্ট মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া সেই নির্দেশের অনুগামী হলে তাকে প্রশংসিত বা পুরষ্কৃত করা হয়। অন্যথায় তাকে তিরস্কৃত বা অপুরষ্কৃত করা হয়। যে কোনো নৈপুণ্য শেখার ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাদান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আচরণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে আমরা সচরাচর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকি। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে "আদিবার ক্ষেত্রে সমাজীকরণের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।" - উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো