HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
দৃশ্যকল্প-১: তপুর বয়স ৬। সে গত দুই বছর ধরে স্কুলে পড়ে। বাবা-মা খেয়াল করলেন এরই মধ্যে তপু কিছুটা নিয়ম-কানুন মানতে শিখেছে, সে কিছুটা স্বাধীনতা চায় অন্যকেও সহযোগিতা। করে।
দৃশ্যকল্প-২: নিপু ও দীপু দুই বন্ধু। তারা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই তারা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। বন্ধুরা যে কাজ করে তারাও একই ধরনের কাজ করে। শিক্ষক খেয়াল করলেন নিপু ও দীপুর বন্ধুরা সব সময় সত্য কথা বলে, পরের উপকার করে এবং পড়ালেখায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষক আরও লক্ষ্য। করলেন এরা ধর্মের বিধি-নিষেধও মেনে চলে।
ক
সমাজীকরণ কী?
উত্তর
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজের উপযোজন সাধন করে তাকেই সমাজীকরণ বলে।
খ
যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. যৌন হয়রানি নারী জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এবং সে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
২. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
৩. যৌন হয়রানির ফলে মেয়েদের অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
গ
তপুর আচরণে সমাজীকরণের কোন মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ তপুর আচরণে সমাজীকরণের যে মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো-
বিদ্যালয় এবং খেলার সাথী ও সহপাঠী। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বিদ্যালয়: পরিবার নামক একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। যার নাম বিদ্যালয়। বিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের বাইরের সদস্যদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা, পাঠকক্ষের অন্যান্য সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন সবকিছুই শিশুকে সমাজীকরণে সহায়তা করে। পারিবারিক স্নেহ- মমতা ছাড়াও বিদ্যালয়ে আসার ফলে শিশু বিদ্যালয়ের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তখন শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এবং কাজ করার সময় সম্পর্কেও সচেতন হয়। বিদ্যালয় শিশুর আচরণের দিকগুলোকে উন্নত করে।
২. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদণ্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে। একটি শিশুর নিজের সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টিতে সমবয়সী বা সহপাঠীরা ভূমিকা রাখে। সমবয়সী, খেলার সাথী ও সহপাঠীদের প্রভাবে শিশুর মধ্যে অনেক সামাজিক দায়িত্বের বিকাশ লাভ করে। সামাজিক দায়িত্বগুলো হলো সহযোগিতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি।
ঘ
"নিপু ও দীপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে খেলার সাথী ও সহপাঠী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিদ্যমান। নিচে "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খেলার সাথী ও সহপাঠী: সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মাধ্যম হলো খেলার সাথী ও সহপাঠী। খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুর ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই বয়সী শিশুরা খেলার সময় মূলত একই আচরণ করে থাকে। শিশু তার নিজের আচরণের মানদন্ড তুলনা করতে পারে। একই সাথে সমবয়সীদের প্রসংশা, নিন্দা, সমর্থন সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। আবার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও খেলার সাথীদের মতোই ভূমিকা পালন করে। খেলার সাথী বা সহপাঠী দলের আদর্শমানের তুলনার মাধ্যমে শিশু তার নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করতে পারে।
২. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: আমাদের সমাজের একটি গুরত্বপূর্ণ উপাদান হলো ধর্ম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান আধুনিক সমাজে শিশু পরিবার থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা পেয়ে থাকে। পৃথকভাবে বিবেচনা করলে, পরিবারের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা একটি শিশুকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। মূলত ধর্মীয় অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ শিশুর আচরণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বলা যায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি। সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ পুরোপুরি আয়ত্ত করতে হলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা আদর্শগুলো মেনে চলা উচিত। সমাজীকরণ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মানব আচরণ নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, "নিপু ও দিপুর সমাজীকরণে একাধিক মাধ্যমের প্রভাব বিদ্যমান।" উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
