উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার আচরণে আগ্রাসনের কারণ হিসেবে জন্মগত প্রবৃত্তি (Instinct Act) এবং আধিপত্য ও উদ্দেশ্যগত (Dominate & Intended) বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
আগ্রাসন একটি জন্মগত প্রবৃত্তি। জন্মসূত্রে মানুষের মধ্যে আগ্রাসন এসেছে। প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmond Freud) এ মতবাদের একজন প্রবক্তা। ফ্রয়েডের মতে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দু'প্রকারের প্রবৃত্তি রয়েছে- জীবন প্রবৃত্তি (Thanatos) ও মরণ প্রবৃত্তি (Eros)। আগ্রাসন মানুষের মরণ প্রবৃত্তি থেকে উৎসারিত।
মরণ প্রবৃত্তির কারণে মানুষ আক্রমণাত্মক আচরণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নিষ্ঠুরতা, ধর্ষণ, নির্যাতন- এককথায় সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়। এ প্রবৃত্তির কারণে মানুষের মধ্যে প্রায় সময়ই আগ্রাসী তাড়না জমা হতে থাকে। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত আগ্রাসন ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে লালিত ও সম্প্রসারিত হয়ে প্রবৃত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করে। এই জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আগ্রাসনের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।
আবার, হামিদ মিয়ার আগ্রাসনের পেছনে আধিপত্য ও উদ্দেশ্যগত প্রবৃত্তিও প্রকাশ পায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জমি নিয়ে বিবাদের এক পর্যায়ে হামিদ মিয়া অপর পক্ষকে বলেছেন যে তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। যা মূলত আধিপত্য ও উদ্দেশ্যগত প্রবৃত্তির প্রভাবেই ঘটেছে। সাধারণত ব্যক্তি তার আধিপত্যকে বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আগ্রাসন প্রকাশ করে থাকে। কখনও কখনও ব্যক্তি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যও এ ধরনের আগ্রাসন প্রকাশ করে থাকে।