তপুর আচরণে সামাজীকিকরণের লিঙ্গানুগ মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ছেলেদের পুরুষের মতো এবং মেয়েদের নারীসুলভ আচরণই হলো লিঙ্গানুগ আচরণ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ব্যক্তির লিঙ্গানুগ ভূমিকা পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ থেকে বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা ব্যক্তি তার লিঙ্গের অন্যান্য সদস্যদের মতো আচরণ করতে শিখে। বান্দুরা (১৯৭৪) এবং মিশেল (১৯৬৮) দেখেন যে, ব্যক্তি অন্যের আচরণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লিঙ্গানুগ ভূমিকা পালন করে। যেমন- একটি মেয়ে তার মায়ের মতো আচরণ করে, স্কুল, কলেজে বান্ধবীদের আচরণ অনুসরণ করে- এভাবে তার মধ্যে নারীসত্তা গড়ে ওঠে। ভক্স (১৯৭৬) দেখেন যে, ছেলেদের মধ্যে স্বাধীনতা, প্রতিযোগিতা, প্রাধান্য বিস্তার প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য অধিক বিদ্যমান, পক্ষান্তরে মেয়েদের মধ্যে নম্রতা, উষ্ণতা ও কোমল অনুভূতি প্রকাশের বিষয়সমূহ অধিক বিদ্যমান। সুতরাং বলা যায়, সামাজিক প্রভাবেই এরূপ ফলাফল পাওয়া গিয়েছে।
আধুনিককালে নারীর ভূমিকায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষণীয়। শিশুপালন, আনুগত্য, লাজুকতা প্রভৃতি সনাতন বৈশিষ্ট্যের সাথে চাকুরির কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়া, স্বামীর সাথে কাজকর্মে অংশীদার হওয়া, সিন্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আজকাল শিশুই মাকে দেখতে পাচ্ছে।-এ কথা সত্য যে, সেকাল এবং বর্তমানের শিশুরা তাদের নিজ মাকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নারীর ভূমিকা আয়ত্ত করেছে এবং সে অনুযায়ী নিজের আচরণ গঠন করেছে। একইভাবে ছেলেরা পিতা বা পিতৃতুল্য ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আচরণ গঠন করে এবং ভবিষ্যতেও অনুরূপ ধারা অব্যাহত থাকবে।