উদ্দীপকে সুমনের সমাজীকরণের উক্ত মাধ্যম অর্থাৎ পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আর যেসব মাধ্যম থাকতে পারে বলে আমি মনে করি তা হলো খেলার সাথী, সমাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও অন্যান্য মাধ্যম। নিচে আলোচনা করা হলো-
খেলার সাথী: শিশুর সমাজীকরণে খেলার সাথীরাও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। Riesman এর মতে সমবয়সী দল ক্রমেই সমাজীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে পড়েছে। কেননা আজকের মানুষ তার সমসাময়িক সঙ্গীদলের কাছ থেকেই নির্দেশ ও পরামর্শ গ্রহণ করতে অধিক আগ্রহী সমবয়সীদের সমর্থন, প্রশংসা, নিন্দা সবকিছুর প্রতি শিশু বেশ সংবেদনশীল থাকে।
সমাজ: শিশুর সমাজীকরণে সমাজ পুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিশুর বয়স যত বাড়ে তত বেশি সে সামাজিক ক্ষেত্রে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। ফলে সামাজিক শিক্ষণও হয় ব্যাপকভাবে। বিবাহ অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বৈশাখী মেলা, প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর সামাজিক শিক্ষণ ঘটে থাকে।
ধর্মীয় শিক্ষা: ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে থাকে। কোনো ধর্মে বিশ্বাসী থাকার কারণে ব্যক্তির মধ্যে ঐ ধর্মের নিয়ম-কানুন, বিধিনিষেধ এসব মেনে চলার প্রবণতা গড়ে উঠে। ধর্ম বিশ্বাসের কারণে শিশুর মধ্যে সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যপরায়ণতা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকার প্রভৃতি গুণাবলির জন্ম লাভ করে। ধর্মীয় শিক্ষার কারণে ব্যক্তি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, প্রতিবেশীর হক আদায় করে প্রয়োজনে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে, সমাজের দরিদ্রশ্রেণিকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করে থাকে।
অন্যান্য মাধ্যম: প্রাপ্তবয়স্কদের সমাজীকরণে বিবাহ, পিতৃত্ব-মাতৃত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ, প্রেমিকের মৃত্যু প্রভৃতি ঘটনাবলি প্রভাবশালী উপাদান। এসব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্কদের পুরানো অভ্যাস ছাড়িয়ে নতুন অভ্যাস ও আচরণ গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অর্থাৎ সারা জীবনব্যাপী বিভিন্ন মাধ্যমের প্রভাবে ব্যক্তির সমাজীকরণ চলতে থাকে।