'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে; উদ্দীপকের কবিতাংশটিও একই চেতনা ধারণ করে।'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনা থেকে জানা যায়, বাঙালির ভাষার দাবিকে যৌক্তিক বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনকে সমর্থন করেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেও তিনি বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলনের খোঁজ রাখেন। এছাড়া, তিনি অনশনব্রত গ্রহণ করে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেন।উদ্দীপকের কবিতাংশে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদী চেতনার অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে। সুদীর্ঘকাল ধরে দেশের জন্য, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রক্তদানের ইতিহাস বাঙালি জাতির প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। ভিনদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামের ঐতিহ্য মিশে আছে বাংলার মানুষের রক্তে। এদেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বারবার পরাভূত করেছে অশুভ শক্তিকে। যে দেশে এমন বীর সন্তান আছে, সে দেশ কখনো শত্রুর কাছে পরাভূত হতে পারে না বলে মনে করেন উদ্দীপকের কবি। 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায়ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদী চেতনার জাগরণ লক্ষ করা যায়।'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসন ও বিনাবিচারে রাজবন্দিদের কারাগারে আটকে রাখার প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। তিনি সেসময় চলমান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকেও অকুন্ঠ সমর্থন জানান। এমনকি তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হলেও তিনি অনশন অব্যাহত রাখেন। একইভাবে, আলোচ্য উদ্দীপকেও শত্রুর অন্যায় মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। অতএব, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনা ও উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগের চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।