উদ্দীপকের সাথে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।শোষকের চরিত্র অভিন্ন। যুগে যুগে তারা এ দেশের মানুষকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করে। তাঁদের স্বার্থ ও লোভের শিকারে পরিণত হয় সাধারণ নিরীহ মানুষ। তবে সবসময় তারা অন্যায় মেনে নিয়ে মুখ বুজে থাকে না। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করে।উদ্দীপকে সংগ্রামী চেতনার সাফল্য অর্থাৎ পরাধীনতার গ্লানি মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার আলোয় উদ্ভাসিত' হওয়ার বিষয় নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশে সামরিক আগ্রাসন, পাকিস্তানি শোষকদের নির্মম অত্যাচার, লাখো মানুষকে হত্যা, নির্যাতন সত্ত্বেও কবির মহিমান্বিত স্বদেশ অটল, অচঞ্চল হয়ে জেগে থাকে। পরাধীনতার শিকলে যারা বাঁধা পড়ে ছিলেন দীর্ঘদিন, তাঁরাই মুক্তির বোধে উজ্জীবিত হয়েছেন এবং একেকজন সপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধার বেশে আবির্ভূত হয়েছেন। বিদ্রোহী পূর্ণিমার আলোয় তাঁরা স্বাধীন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এই সংগ্রামী চেতনা 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও দৃঢ়, সংহত ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলতে ১১৮৯ বঙ্গাব্দে নূরলদীনের কৃষক বিদ্রোহের সংগ্রামী চেতনাকে স্মরণ করেছেন। এভাবে উদ্দীপক ও কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।