উদ্দীপকে 'আহ্বান' গল্পের মূলবাণী প্রকাশ পেয়েছে।পৃথিবীতে নানা ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের লোক বাস করে। মানুষ নিজের স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদের দেয়াল তোলে। স্নেহ-মায়া-মমতা ও ভালোবাসার কাছে এই বৈষম্য তুচ্ছ হয়ে যায়। মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ভালোবাসার বন্ধনকে দৃঢ় করে।'আহ্বান' একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। এই গল্পের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে, ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিবিভাগ ও বৈষম্য, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে যে দূরত্ব সংস্কার ও গোঁড়ামির ফলে গড়ে ওঠে তা ঘুচে যেতে পারে নিবিড় স্নেহ, উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় দৃষ্টিভঙ্গির ফলে। এই গল্পের মূল বাণী হলো ধর্মীয় সংস্কার বা গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মাতৃত্ব। তাই ভিন্ন ধর্মের হয়েও কেবল মাতৃস্নেহের কারণেই বুড়ি বারবার ছুটে গেছে তার গোপালের কাছে। গোপালও বুড়ির মাঝে নিজের আপনজনের সন্ধান পেয়েছেন। উদ্দীপকেও এক নিঃসন্তান বিধবা হিন্দু নারীর কথা প্রকাশ পেয়েছে, যে মাতৃস্নেহের টানে এক মুসলিম চাষির শিশুপুত্রকে বুকে তুলে নিয়েছে। মাতৃহৃদয় উজাড় করে শিশুটিকে সে পালন করে। তাই ছেলেটি নিরুদ্দিষ্ট হলে সৌদামিনীর হৃদয় হাহাকার করে ওঠে।'আহ্বান' গল্প ও উদ্দীপক উভয় জায়গায় উদার মানবিক সম্পর্কের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। ধর্মীয় সংস্কার পেছনে ফেলে মাতৃত্ব ও মানবিকতার বিষয়টি 'আহ্বান' গল্পে প্রকাশ পেয়েছে, যা এই গল্পের মূল বাণী। উদ্দীপকের সৌদামিনীর উদার মনোভাব ও মাতৃত্ববোধ আলোচ্য গল্পের এই বিষয়টিকেই নির্দেশ করে। এভাবে উদ্দীপকে 'আহ্বান' গল্পের মূলবাণী প্রকাশ পেয়েছে।