"উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ।”- এ মত কতটা গ্রহণযোগ্য? মূল্যায়ন কর।
উত্তর: "উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ।"- এ মত গ্রহণযোগ্য।সমাজে ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে রয়েছে। সমাজে সাধারণত দরিদ্র শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই শোষণ-বঞ্চনার শিকার। ধনীরা অর্থ-সম্পদের প্রভাবে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। অর্থ-ক্ষমতার এই বৈষম্য প্রাচীর সমাজের মানুষের জন্য ক্ষতিকর।উদ্দীপকে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত একটি পরিবারের সন্তানের জীবনের দুঃখ-দুর্দশা বর্ণনা করা হয়েছে। কিশোর সাজাহান কৃপণ ও ধনী আলম সাহেবের বাড়িতে কাজ করে। সে পরিশ্রম অনুযায়ী খাবার পায় না। বাজারের টাকা বাঁচিয়ে একদিন লাড্ডু কিনে খাওয়ার অপরাধে আলম সাহেব সাজাহানকে নির্দয়ভাবে মারে। এই বিষয়টি 'বিড়াল' গল্পের বিড়ালকে মারতে চাওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে ক্ষুধার্ত বিড়াল কমলাকান্তর জন্য রাখা দুধ চুরি করে খেয়ে ফেলে। এই অপরাধে কমলাকান্ত লাঠি হাতে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। তখন বিড়ালটি ভয় না পেয়ে একটু দূরে সরে বসে এবং 'মেও' শব্দ করে। কমলাকান্ত তখন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে বিড়ালের বক্তব্য শুনতে পান। ধনীর ধনে যে ক্ষুধার্তের অধিকার আছে তার পক্ষে বিড়াল যুক্তি দেখায়। উদ্দীপকে অনুরূপ যুক্তি না থাকলেও ক্ষুধার্তের অধিকারের ভাবটি অভিন্ন।'বিড়াল' রচনাটি নকশাজাতীয় ব্যঙ্গ রচনা। এতে লেখক একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালের কমলাকান্তর জন্য রাখা দুধ চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এবং সমাজের নানা অসংগতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বিড়াল এখানে দরিদ্র শ্রেণির প্রতিনিধি এবং প্রতীকী চরিত্র। এখানে সমাজের দরিদ্র মানুষেরা কীভাবে প্রতিনিয়ত শোষিত হয় তা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে সাজাহানও বৈষম্যের শিকার। কঠোর পরিশ্রম করেও সে ক্ষুধার অন্ন পায় না। ক্ষুধা মেটাতে বাজারের পয়সা বাঁচিয়ে লাড্ডু কিনে খায়। ফলে তাকে মালিক নির্যাতন করে। এদিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য।
HSC Bangla 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · সৃজনশীল
"উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ।”- এ মত কতটা গ্র…
উদ্দীপক
Dhaka, Jessore, Sylhet, Dinajpur Board · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর