'ঐকতান' কবিতার মর্মার্থ হলো অন্ত্যজ ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি মমতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে সবাই একত্রে মিলেমিশে বসবাস করে। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের স্বার্থে মানুষে মানুষে শ্রেণিবৈষম্য তৈরি করে। মানুষ এটা ভুলে যায় যে, যুগে যুগে এই শ্রমজীবী মানুষেরাই তাদের শ্রম দিয়ে সভ্যতা নির্মাণ করে চলেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে করি ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, প্রভু, ক্রীতদাস, কৃষিজীবী, তাঁতি, স্থপতি, ছুতার, কর্মকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন এসব শ্রমজীবী মানুষই সভ্যতা নির্মাণ করে। কবির কাছে তাই কেউ ছোট-বড় নয় । তাঁর কাছে সব মানুষই সমান। 'ঐকতান' কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সমগ্র জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব করেছেন । অকপটে নিজের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা ও অপূর্ণতার কথা স্বীকার করেছেন। অন্ত্যজ শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে মিশতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন । তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন, শ্রমজীবীদের অবদানের কথা।
উদ্দীপকের কবি এবং 'ঐকতান' কবিতার কবি উভয়েই শ্রমজীবীদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তাদের প্রতি গভীর মমতা অনুভব করেছেন। মানুষের প্রতি মমতা ও শ্রদ্ধাবোধ উদ্দীপক ও 'ঐকতান' কবিতার মর্মার্থ।