মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে অনড় ও অবিচল এক মানুষ। তিনি বাঙালিকে পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেছেন। দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন বলেই জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে । বাংলার মানুষের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ বর্ণনাতীত ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনসাধারণের অধিকার আদায়ের জন্য এবং ব্রিটিশদের দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধী অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের মন্ত্র শুনিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয় এবং এ আন্দোলনের পথ ধরেই ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় দেখা যায়, বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুকে কারাবরণ করতে হয়েছে, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবু তিনি দমে যাননি। বজ্রকণ্ঠে পাকিস্তানি সরকারের অন্যায়-নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছেন। জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় অনশন-ধর্মঘট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীও ভারতের সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য লড়েছেন। সুতরাং মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়ই দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তিকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন— উক্তিটি যথার্থ।