উদ্দীপকের চিত্রে ভাষা আন্দোলনের দিকটি উঠে এসেছে, যা 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার আলোচনাতেও লক্ষ করা যায় । 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তিলাভের স্মৃতি বিবৃত হয়েছে। জেলে থাকার সময়ে তিনি ভাষা আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের গুলিবর্ষণের কথা শুনতে পান। তখন তিনি এটিকে মুসলিম লীগ সরকারের অপরিণামদর্শিতার কাজ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষার জন্য পৃথিবীতে বাঙালিই প্রথম রক্ত দিলো । তিনি এ- ও বলেন, ছেলেরা যখন রক্ত দিয়েছে, তখন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে আর উপায় নেই । উদ্দীপকের চিত্রে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের দিকটি উঠে এসেছে। এখানে ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে দীর্ঘ শোভাযাত্রার কথা উঠে এসেছে। সবার মুখে ধ্বনিত হচ্ছে 'নূরুল আমিনের রক্ত চাই', 'নাজিমুদ্দিন গদি ছাড়' প্রভৃতি স্লোগান । আর এ দিকটি আলোচ্য রচনায় বাস্তবরূপ লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু সে সময়ের বাস্তবচিত্র তাঁর লেখায় তুলে ধরতে পেরেছেন। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় সে সময়কার নানা দিক তিনি তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। তিনি জেলে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকারের অপরিণামদর্শিতা। কেননা, তিনি জানতেন, যে জাতি রক্ত দিতে জানে সে জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না। আর এ দিকটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য রচনার পটভূমিগত অভিন্নতা প্রতিপন্ন করেছে।