উদ্দীপকের রাজা ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের রাজ্য শাসন চিন্তার মধ্যে নিপীড়ন বনাম ন্যায়বিচার, স্বেচ্ছাচারিতা বনাম L প্রজাহিতৈষী- এই মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজ প্রজাদের ন্যায়বিচার দিতে চেয়েছেন। ইংরেজ ও দেশীয় শোষকদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন যেন সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমে। তাঁর শাসনচিন্তায় প্রজার কল্যাণ ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষাই ছিল প্রধান।
উদ্দীপকের রাজা ব্যক্তিগত বাগান বাড়ানোর জন্য উপেনের শেষ জমিটুকু কেড়ে নিতে চান। তার এই আচরণ একটি স্বেচ্ছাচারী, নিষ্ঠুর, ও প্রজাবিরোধী শাসনচিন্তার প্রকাশ। অন্যদিকে নাটকের সিরাজ উলটো ইংরেজ ও শোষকদের হাত থেকে প্রজাদের জমি ও অধিকার রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এখানেই রাজা আর নবাবের মধ্যে আদর্শিক পার্থক্য বিদ্যমান।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের শাসনচিন্তা ছিল ন্যায়ভিত্তিক ও প্রজাকেন্দ্রিক। তিনি শোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রজাদের অধিকার রক্ষা করতে চেয়েছেন। নবাবের এমন চিন্তা উদ্দীপকের রাজার স্বার্থপর ও অত্যাচারী শাসনচিন্তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এই পারম্পর্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একজন শাসকের নৈতিক চরিত্র ও প্রজাহিতৈষী চিন্তা তার শাসনের মান নির্ধারণ করে, যেখানে সিরাজ উদার ও রাজা নিষ্ঠুর।