'বিশ্বমানবের সাথে নিত্যনতুন সম্বন্ধ পাতানোই কবিমনের নিত্য-নৈমিত্তিক কর্ম'- উক্তিটি যথার্থ কারণ উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ের মধ্যেই এই উক্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক ব্যাখ্যা করেন, কবি বা সাহিত্যিক তার সৃষ্টির মাধ্যমে অজানা মানুষের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি - করেন, তাদের অনুভূতির সাথে মিলিত হন। এটি সাহিত্যের খেলা বা লীলার অংশ, যা মানুষের মনকে সংযুক্ত করে এবং একই আনন্দে শরিক করে।
উদ্দীপকের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর কাজটি সার্থকভাবে করেছেন। গল্পের কাবুলিওয়ালা একজন আফগান ফল বিক্রেতা কিন্তু লেখক তাকে এবং তার গভীর পিতৃস্নেহকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছেন। গল্পটি পাঠকের সঙ্গে রহমতের মানবিক বন্ধন তৈরি করে, জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে। এটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য হলো 'মনোজগতে খেলা'। উদ্দীপকের কাবুলিয়ালা এই খেলার মাধ্যমে মিনির সাথে আনন্দ ও সম্পর্ক তৈরি করেছে। রহমতের সাথে মিনির বন্ধুত্ব পাঠকের হৃদয়ে সর্বজনীন মানবতার বোধ জাগায়। এই বোধ সময় ও স্থানের সীমাকে অতিক্রম করে। প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের এই সম্পর্ক পাতানোর কাজটি কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থের জন্য নয় বরং এটি নিষ্কাম খেলা। রবীন্দ্রনাথও এই গল্পে একটি সহজ মানবিক সম্পর্কের গল্প বলেছেন, যা পাঠকের সঙ্গে বিশ্বজনীন সংযোগ স্থাপন করেছে। সুতরাং উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক যে, উদ্দীপকের গল্প ও প্রবন্ধ দুটোই কবি বা লেখকের এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকে সমর্থন করে এবং প্রকাশ করে।