উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ খেলার মধ্যে আনন্দপ্রাপ্তি ও ঘটনা-২ এ পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আনন্দহীনতার যে দিকগুলো 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মতো বর্ণিত হয়েছে তাতে "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়কে নির্দেশ করে" মন্তব্যটি যথার্থ।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। অন্যদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করাও নয়। তাই সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার।উদ্দীপকের ঘটনাংশে-১ এর নাবিল ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়। অন্যদিকে ঘটনা-২-এ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নিরানন্দের দিকটি ফুটে ওঠে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক উদ্দেশ্যগত দিক থেকে খেলার সাথে সাহিত্যের তুলনা করেছেন। আর সাহিত্যিককে তিনি স্কুল মাস্টারির ভার দেননি।উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয় 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিকের কর্তব্যের মতো মূল বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের মতে, খেলাধুলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দ দান। লোকে যখন খেলা করে তখন একমাত্র আনন্দ ছাড়া আর কিছুই চায় না। তাই সাহিত্যের সঙ্গে খেলার তুলনা চলে। এই একই কারণে সাহিত্যিককে স্কুলমাস্টারির ভার দেওয়া যায় না। কারণ স্কুল মাস্টাররা সাহিত্যের আনন্দের ব্যাপারে উদাসীন। তারা কঠিন উপস্থাপনার মাধ্যমে সাহিত্যকে জটিল করে ফেলে। ফলে সাহিত্যের আনন্দ থেকে ছাত্ররা বঞ্চিত হয়ে গলাধঃকরণ শুরু করে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়কে ধারণ করে" মন্তব্যটি যথার্থ।