উদ্দীপকে বর্ণিত "যৌক্তিক ক্ষেত্রে মেনে নেওয়ার প্রবণতা থেকে আত্মসম্মানবোধ নিয়ে নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত" মন্তব্যটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণসাধনের জন্য নারীজাগরণ বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক সমাজের অগ্রগতি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে নারীজাগরণকে কামনা করেছেন। একটি দেশের জনশক্তির অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে কর্মহীন রেখে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই লেখক নারীদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন।উদ্দীপকের আফজাল সাহেবও উন্নত মানসিকতার অধিকারী। তিনি মনে করেন, আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত চেষ্টা একান্ত কাম্য। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মসম্মানবোধ নিয়ে নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখাতে চেয়েছেন যে, শিক্ষা-কর্ম-সক্ষমতা সব দিক থেকে পুরুষরা নারীদের পিছিয়ে রাখছে। তাঁর মতে, সামাজিক অগ্রগতির দিকে লক্ষ রেখে নারীজাগরণ কাম্য। কোনো প্রকার অন্ধ অনুকরণের বশবর্তী হয়ে নয়। তাই তিনি নারীদেরকে পুরুষদের অধীন না থেকে আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন হওয়ার জন্য জ্ঞানচর্চা, কর্মব্রত ও অধিকার সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সমাজজীবনের কল্যাণে নারীজাগরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।নারীমুক্তির চেতনা ধারণ করায় "উদ্দীপকে উল্লিখিত আফজাল সাহেবের মানসিকতা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানসিকতারই বাস্তব প্রতিফলন" মন্তব্যটি যথার্থ।