"নিজ জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামী মানুষ চিরকালই আপসহীন"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ 'কাজ' গল্পের আপসহীন মনোভাবের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে বৃদ্ধ কপিলদাসের সংগ্রামশীলতা প্রধান হয়ে উঠেছে। কপিলদাস মুর্মু এক বৃদ্ধ সাঁওতাল। ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। নিজেদের ভূমি রক্ষায় তার মধ্যে আপসহীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।উদ্দীপকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের সংগ্রামের চিত্র বর্ণিত। হয়েছে। ১৮৫৫ সালে ইংরেজদের দখলদার নীতির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন সাঁওতাল মুর্মু বংশের চার ভাই। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার এ সংগ্রামে শামিল হয় আরও অনেক সাঁওতাল। দখলদারদের বিরুদ্ধে তাঁদের এমন সংগ্রাম ও আপসহীন চেতনা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মুর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। গ্রামের কেউই যখন দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেনি, তখন কপিলদাস একাই তির নিয়ে বেরিয়ে যায় শত্রুর সন্ধানে।'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস তার সংগ্রামী যৌবনের স্মৃতি মাথায় নিয়ে জীবনের শেষ যুদ্ধে ধাবিত হয়। জমিদার-জোতদারদের হাতে বসতভিটা হারিয়ে অস্তিত্বহীন হওয়ার বিষয়টি তার কাছে লজ্জাজনক মনে হয়। বসতবাটি থেকে উন্মুলিত হওয়ার আশঙ্কা যখন তীব্রতর হয় তখন কপিলদাসের মতো বৃদ্ধও অমিত সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। জীবনের শেষ কাজ হিসেবে শেষ লড়াইটা লড়ার জন্য সে নিজেকে সময়ের হাতে তুলে দেয়। তাই জীবনের শেষ শক্তি দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে একাই ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের চার ভাই সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাই বলা যায় যে, নিজ জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামী মানুষ চিরকালই আপসহীন।