"মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষাই 'বিদ্রোহী' কবিতা ও উদ্দীপকের মূল সুর"- মন্তব্যটি যথার্থ।শোষিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মুক্তির এই মহান সংগ্রামে কখনো একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে পুরো সম্প্রদায় সংগ্রাম করেছে, আবার কখনো ব্যক্তিই তার মুক্তির জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে।'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহীসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছেন। উৎপীড়িত জনতার কান্নার রোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত কবির এ বিদ্রোহ চলতেই থাকবে। অত্যাচারীর অত্যাচার থেকে মানুষের মুক্তি না মেলা পর্যন্ত কবির এ সংগ্রাম। অন্যদিকে উদ্দীপকের কবি সব অন্যায়-অবিচার, জঞ্জাল ও বৈষম্য দূর করে মানবমুক্তির কথা বলেছেন। কবি নবজাতক তথা আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসের উপযোগী একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রাণপণ চেষ্টা করে তিনি তাই মানবমুক্তির পথ প্রতিষ্ঠা করতে চান। আর এই পথে যত বাধাই আসুক তাকে জঞ্জাল ভেবে সরিয়ে দিয়ে কবি একটি শান্তির পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশী।উদ্দীপকে সব বাধা-বিপত্তি, জঞ্জাল তথা অন্যায়-অবিচার দূর করে নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আবার 'বিদ্রোহী' কবিতায় বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পুরাণের শক্তির উৎস থেকে সমীকৃত কবিসত্তা বিশ্বব্যাপী অত্যাচার-জুলুম থেকে মুক্তির বিদ্রোহ ছড়িয়ে দিয়েছে। কবি সব অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম থেকে মানুষের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।