“উদ্দীপক এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য"–কবিতার আলোকে বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর: “উদ্দীপক এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য" - মন্তব্যটি যথার্থ। সংগ্রাম বাংলার মানুষের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। কারণ শোষকের হাত থেকে মুক্তির জন্য বাঙালি জাতি যুগে যুগে সংগ্রাম করেছে। ১৮৬০ সালে নীলচাষীদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে, ১৯৫২ সালে বাঙালি ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে, ১৯৭১ সালে সে সংগ্রাম করেছে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। "ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বাঙালি জাতির এই সংগ্রামী জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। অত্যাচারী, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বাংলা মানুষ আন্দোলন শুরু করে। পরে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। কারখানার শ্রমিক মাঠের কৃষক মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত কেরানী নারী বৃদ্ধ সবাই তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সমবেত হয়েছিল। তাদের জাগরণ ও আন্দোলনে পথশিশুরাও যোগ দিয়েছিল। অবশেষে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। উদ্দীপকেও বাঙালির এই সংগ্রামী জীবনচেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা এদেশের চাষীদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাতো। চাষীদেরকে নামেমাত্র দাদন দিয়ে নীলচাষ করানো হতো। নীলচাষে বাধ্য হওয়ায় চাষীরা তাদের প্রয়োজনীয় শস্য যেমন ধান, পাট, সরিষা ইত্যাদি উৎপাদন করতে পারতো না। নীলচাষ করতে অপারগ হলে চাষীদের ওপর নেমে আসতো নির্মম অত্যাচার। এ কারণে সারা দেশে গড়ে ওঠে নীল বিদ্রোহ। উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বাঙালির সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে বলা হয়েছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বাঙালির দৃঢ়তা উভয় স্থানেই এক অনবদ্য শিল্পরূপ পেয়েছে। প্রতিবাদী চেতনায় বাঙালির যে স্বতন্ত্র অবস্থান তারই শিল্পভাষা উদ্দীপক ও আলোচা কবিতা।
HSC Bangla 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · সৃজনশীল
“উদ্দীপক এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চ…
উদ্দীপক
নটরডেম কলেজ · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর