কফিলউদ্দীন ও মজিদের প্রতারণায় নামার জন্য সমাজের দরিদ্র-অশিক্ষিত মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও অসচেতনতাই প্রধানত দায়ী বলে আমি মনে করি।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ গ্রামবাসীর ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, ভয় ও কুসংস্কারকে কাজে লাগায়। গ্রামের মানুষরা শিক্ষা ও যুক্তিবাদী চিন্তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা সহজেই মাজার ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জালে আবদ্ধ হয় এবং অর্থসম্পদ দান করতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের কফিলউদ্দীনও একইভাবে মানুষের স্বাস্থ্যগত অসচেতনতা কাজে লাগিয়ে নকল ডাক্তারি করে। মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবেই তারা নকল ডিগ্রি ও বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে প্রতারণার শিকার হয়। এভাবে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও উদ্দীপকের কফিলউদ্দীন দুজনেই তাদের সমাজের মানুষের অজ্ঞানতা ও মানসিক দুর্বলতাকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের প্রতারণার মূল হাতিয়ার হলো গ্রামবাসীর ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক কুসংস্কার। এসবের সুবিধা নিয়েই সে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবকে নিশ্চিত করে। উদ্দীপকের কফিলউদ্দীনও সমাজের দরিদ্র শ্রেণির অজ্ঞতাকে ব্যবহার করে নকল চিকিৎসার মাধ্যমে শোষণ করে। উভয় ক্ষেত্রেই সমাজের একটি বড়ো অংশের শিক্ষা, যুক্তিবাদ ও সচেতনতার অভাবই প্রতারকদের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। তাই আমি মনে করি, কফিলউদ্দীন ও মজিদের প্রতারণার পেছনে সমাজের অশিক্ষা, দারিদ্র্য ও অন্ধবিশ্বাসই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।