"জনাব হাসানের প্রতিষ্ঠানটি সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে”- উক্তিটির সাথে আমি একমত। তাদের গঠিত সংগঠনটি হলো সমবায় সংগঠন।
একই শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ অর্জনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সমবায় আইনের আওতায় যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে তাকে সমবায় সমিতি বলে। সমবায় সংগঠন একই শ্রেণিভুক্ত মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের আরাফাত, রুহি এবং নিশাত তিন বন্ধু মিলে অংশীদারির ব্যবসায় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে জনাব হাসান তার গ্রামের ২৫ জন প্রতিবেশীকে নিয়ে একটি সংগঠন করেন। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত তাদের এ ব্যবসায়ের সাথে সমবায় ব্যবসায় সংগঠনের মিল রয়েছে।
সাধারণত সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায় সমিতি গঠিত হয়ে থাকে। সমবায় সমিতির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন বিশজন হয়ে থাকে। এরূপ সমিতির মূল ভিত্তি হলো একতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা, পারস্পরিক কল্যাণসাধন, নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি। সমবায় সমিতির সুবিধা হলো এর দ্বারা স্বল্পআয়ের সমশ্রেণির লোকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়; যা উদ্দীপকের সমবায় সংগঠনে প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, সমতার ভিত্তিতে একই শ্রেণিভুক্ত মানুষের গড়ে তোলা সংগঠন সমবায় সমিতি সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের আর্থিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।