উদ্দীপকে একই জমিতে উপকরণ বাড়ালে এর প্রান্তিক উৎপাদন ব্যায় ক্রমান্বয়ে বাড়ে না বরং কমে যায়। যা ভূমির প্রান্তিক উৎপাদন বিধি হিসেবে বিবেচিত।
ভূমিতে অধিক পরিমাণ শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করলেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর তার উৎপাদন বৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে কমে যায়, যাকে ক্রমহ্রসমান বিধি বলে।
উদ্দীপকে রবিন সাহেব তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। তার জমিতে কমলালেবু উৎপাদন খুবই উপযোগী। ২০১৭ সালে তিনি শ্রম ও মূলধন বাবদ ৫,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৭ মে. টন কমলালেবু উৎপাদন করেন। ২০১৮ সালে তিনি একই জমিতে ৫,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৮ মে. টন, ২০১৯ সালে ৬,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৯.২ মে. টন,২০২০ সালে ৬,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ মে। টন এবং ২০২১ সালের ৭,০০,০০০ টাকা বিনিয়র করে ১০-১৫ মে. টন কমলালেবু উৎপাদন করেন।
প্রতিবছর সমপরিমাণ শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট সময় তথা ২০২০ সালের উৎপাদন হার কমে যায়। তো উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমে যাওয়াই প্রান্তিক উৎপাদন।
উপকরণ চারটি যথা: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। পন্য বা সেবা উৎপাদনের প্রত্যেকটি উপকরণ আবশ্যক। কিন্তু এসব উপাদান পরস্পর ভিন্ন। ভূমি প্রাকৃতিক সম্পদ যা আমরা উৎপাদন কাজে ব্যবহার করে থাকি। ভূমির কোনো যোগান দাম নেই এবং এটি কেউ ধ্বংস করতে পারে না, ভূমি অবিনশ্বর। কিন্তু এতে প্রান্তিক বিধি কার্যকর।
নির্দিষ্ট সময়ের পর ভূমির প্রান্তিক উৎপাদন কমে যায়। একই জমিতে অধিক পরিমাণ শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করলেও এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর এর উৎপাদন একই অনুপাতে বৃদ্ধি পায় না। অর্থাৎ মোট উৎপাদন বাড়লেও প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে যায়।
তাই বলা যায় উদ্দীপকের রবিন সাহেবের কমলালেবু উৎপাদনে উক্ত বিধি কার্যকর।