উদ্দীপকে মি. আব্দুস সালাম মার্চ মাসে ফুলকপির বীজ বপন করে যথাযথ পরিচর্যা করা সত্ত্বেও ভালো ফলন পাননি। তাই কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে তিনি তাকে ঢেঁড়স চাষের পরামর্শ দেন। নিচে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শের যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
বাংলাদেশে কৃষিকাজ ও শস্যের উৎপাদন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। সব ফসল সব সময় হয় না।
তাপমাত্রা, দিনের আলোর দৈর্ঘ্য, পানির পরিমাণ ইত্যাদির তারতম্যের কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শস্য জন্মে। অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন মৌসুম রয়েছে যাদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিদ্যমান। উদ্দীপকে উল্লেখিত ফুলকপি রবি মৌসুমের ফসল। আর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রবি মৌসুম বিস্তৃত। এ সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদির পরিমাণ কম থাকে যা ফুলকপি চাষের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু মার্চ মাসে দিনের দৈর্ঘ্য বড় হতে থাকে, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে এমনকি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে যা ফুলকপির জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এ সময় যথাযথ পরিচর্যা করলেও ফুলকপির ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মার্চ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময়ে যেহেতু খরিফ ঋতু বা মৌসুম বিস্তৃত এবং ঢেঁড়স একটি খরিফ মৌসুমের ফসল তাই মার্চ মাসে ঢেঁড়স লাগালে ঢেঁড়সের ফলন ভালো পাওয়া যাবে। কারণ, এ সময়ে অর্থাৎ মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া খরিফ মৌসুমে বেশি পরিমাণে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত বিরাজ করে যা ঢেঁড়স উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত এবং তা ঢেঁড়সের ভালো ফলনকে নিশ্চিত করে।
অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা বলা যায় যে, কৃষি কর্মকর্তা - মি. আব্দুস সালামকে যে পরামর্শ দিলেন তা সত্যিই যথার্থ ছিল।