ফসল উৎপাদনের জন্য ফুল ধরা আবশ্যক। উদ্ভিদের ফুল ধারণ দিবা দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভরশীল। দিবা দৈর্ঘ্যের প্রতি ফসলের ফুল ফোটার জন্য সাড়া প্রদানকে ফসলের আলোকসংবেদনশীলতা বা ফটোপিরিয়ডিজম বলে। নিচে ফসল উৎপাদনে ফটোপিরিয়ডিজম অর্থাৎ দিবা দৈর্ঘ্যের গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।
ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষিতে, ফটোপিরিয়ডিজমের গুরুত্ব ব্যাপক। উদ্দীপকের ছোট দিনের উদ্ভিদ শিমের দিবা দৈর্ঘ্যকে যদি নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ দিবা দৈর্ঘ্যের পরিমাণ কমানো যেত তাহলে আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে আগাম শিম উৎপাদন করা যেত। এতে ভোক্তার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষকের উন্নতি হতো। এভাবে আলোক সংবেদনশীলতার কৌশল ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। দিবা দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে উদ্ভিদের অঙ্গজ বৃদ্ধির হার (টিউবার, রাইজোম, বাল্ব) ও ফুল ফোটার সময়কাল নিয়ন্ত্রণ করে চাহিদামতো ফসল ফলানো সম্ভব। এ কৌশল ব্যবহার করে একবর্ষজীবী কিছু উদ্ভিদে বছরে দুবার ফুল ফুটানো এবং কখনো কখনো অনির্দিষ্টকাল ফুল ফুটাতে বাধ্য করা যায়।
আবার পত্রবহুল উদ্ভিদে ফুল ফোটা নিরুৎসাহিত করে পত্রবহুল রাখা যায়। এমনকি দিবা দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন জাতে বিভিন্ন সময়ে ফুল ফোটানো এবং উন্নতমানের ফসল উৎপাদন করা যায়।