উপযুক্ত উদ্দীপকে উল্লেখিত শফিক সাহেবের শেষের উক্তিটি হলো- "বাংলাদেশের কৃষিতে মৌসুমি জলবায়ুর গুরুত্ব অপরিসীম"।
নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ফলে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় থাকে।
২. গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে ধান, পাট, ইক্ষু, চা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
৩. গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
৪. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সঠিক সময়ে উপযুক্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হলে ধান, পাট, গম, শাকসবজি ইত্যাদির ফলন বাড়ে। তেমনি এর প্রভাবে অনাবৃষ্টি হলে ফসলহানি হয়ে খাদ্যাভাব দেখা যায়।
৫. শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টির প্রভাবে ডাল শস্য, তেলবীজ শস্য, গোলআলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি রবি শস্যের ফলন ভালো হয়।
৬. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে যা কৃষি কার্যের জন্য সহায়ক। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৭. মৌসুমি বায়ু অনুকূলে থাকলে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন বেশি হয়। ফলে রপ্তানি বাড়ে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে।
৮. বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, ডোবা, হাওর-বাঁওড় প্রভৃতি পানিতে ভরে যায়। এর ফলে এসব জলাশয়ে প্রচুর মাছ উৎপন্ন হয়।
৯. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় চা ও রাবার উৎপন্ন হয়।
১০. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়' এবং নদীর দুই কূল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীর উভয় তীরের জমিতে পলিমাটি পড়ে এবং তাতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে শফিক সাহেবের শেষোক্ত উক্তিটির তাৎপর্য স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়।