শিক্ষক দ্বিতীয় যে কথাটি আলোচনা করলেন তা হলো জলবায়ুর পরিবর্তন। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে আমরা নানামুখি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তার মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এখন পরিবর্তিত জলবায়ুতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-
১. লবণাক্ততা এড়ানোর জন্য উপকূলীয় এলাকায় রোপা আমন মৌসুমে বিনা-১১, ব্রিধান-৪০, ব্রিধান-৪১, ৪৪, ৫৪ এবং বোরো মৌসুমে ব্রিধান-৪৭ লবণাক্ততা সহনশীল জাতের চাষ করতে হবে।
২. বরেন্দ্র অঞ্চলে খরার কারণে ধান লাগাতে দেরি হলে নাবী, স্বল্পমেয়াদি ও আলোক সংবেদনশীল বিআর-২২, বি আর-২৩ ও ব্রিধান-৪৬ চাষ করতে হবে।'
৩. বোরো মৌসুমে শীত সহনশীল এবং আমন মৌসুমে নাবী রোপণযোগ্য ও আলোক সংবেদনশীল জাত এবং হঠাৎ জলমগ্ন ও নদীভাঙন এলাকার জন্য কিছু সময় ডুবন্ত অবস্থায় থাকতে পারে এমন জাতের ব্রিধান-৫২, ৫৩ চাষ করতে হবে।
৪. হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা এড়ানোর জন্য স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল জাত যেমন- ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-৪৫ সঠিক সময়ে রোপণ ও বপন করতে হবে।
৫. কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে, কৃষি প্রযুক্তি, গুটি ইউরিয়া ও এল সি সি ব্যবহার, সুয়ম সার, জৈবসার, খাল পুনঃখনন প্রিকাস্ট সেচ নালার সম্প্রসারণ, এ ডব্লিউডি আইল, আইল ফসলের আবাদ, মর্জান পদ্ধতি, রিলেক্রপিং, ইন্টারক্রপিং, বৃক্ষরোপণ, বৃষ্টির পানি আহরণে জলাধার নির্মাণ করতে হবে।
৬. টিস্যু কালচার পদ্ধতির সম্প্রসারণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, কৃষি পণ্যের উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, শস্য বীমা চালু, অঞ্চল ভিত্তিক শস্য চাষ, কৃষি ক্লিনিক, কমিউনিটি রেডিও, টেলিভিশন চ্যানেলে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বাড়াতে হবে।
সর্বোপরি যেহেতু এদেশের কৃষি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই টিকে আছে তাই বেঁচে থাকার তাগিদেই উদ্ভূত সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।