উদ্দীপকে শিক্ষকের উক্তিটি ছিল, "ফটোপিরিয়ডিজমের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও ঋতু নির্ভরশীলতা কাটাতে হবে।" আমরা জানি, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ।
প্রতিবছর এদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ অধিক পরিমাণ জনগোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অধিক হারে সারা বছর নিয়সচ্ছি। খাদ্য যোগানের প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃতিতে বিভিন্ন ফসল দিয়া দৈর্ঘোর উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময় অর্থাৎ বিভিন্ন ঋতুতে উৎপন্ন হয়। ফটোপিরিয়ডিজমের মাধ্যমে দিবা দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে উদ্ভিদের অঙ্গজ বৃদ্ধির হার (টিউবার, রাইজোম, বাল্ব) ও পুষ্প পরিস্ফুটনের সময়কাল নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছামতো অধিক পরিমাণে ফসল ফলানো সম্ভব। এছাড়া এক ঋতুর ফসল অন্য ঋতুতে ফলিয়ে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদার যোগান দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে অক্ষম এমন অনেক উদ্ভিদকে ফটোপিরিয়ডিজমের মাধ্যমে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
একবর্ষজীবী ফসলকে বহুবর্ষজীবী ফসলে পরিণত করে সারা বছর ফসল নিশ্চিত করা যাবে। সুতরাং উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, উদ্দীপকের শিক্ষকের উক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত মূল্যবান।