উদ্দীপকে উল্লেখিত রহিমের বর্ণিত প্রথম বিষয়টি হলো জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬টি জলবায়ু অঞ্চল। নিচে বাংলাদেশের ৬টি জলবায়ু অঞ্চল ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল: বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা ৩৩° সে. এবং শীতকালে প্রায় ১৩° সে.। এ অঞ্চলের পূর্বদিকে অবস্থিত কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
২ ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল বৃহত্তর খুলনা ও বরিশাল জেলার উত্তরের অংশ ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, যশোর, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলের পূর্বাংশ নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চলের বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২২৫ সে.মি., গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭০ সে. ও সর্বনিম্ন ৭০ সে.।
৩. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল: উপকূলীয় অঞ্চল ব্যতীত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সমগ্র রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাত ২৫০ সে.মি. এর অধিক এবং গড় তাপমাত্রা ৩৮০ সে.।
৪. ক্রান্তীয় প্রায় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল: সম্পূর্ণ রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর ও পাবনা অঞ্চলের পশ্চিমাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চল সবচেয়ে শুষ্ক ও উষ্ণ। এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪° সে. এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৫০ সে.মি. এর কম।
৫. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল: বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তর-পূর্বাংশ ও সমগ্র বৃহত্তর সিলেট জেলা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২০ সে., সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০০ সে. এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৭৫ সে.মি. এর বেশি।
৬. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর জেলা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চলের জলবায়ু অনেকটা চরমভাবাপন্ন। বার্ষিক তাপমাত্রা সর্বোচ্চ, ৩২০° সে. এবং সর্বনিম্ন ১০০ সে.। এ অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাত ২০০ সে.মি.