উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখা দুটি হলো জলবায়ুবিদ্যা ও ভূমিরূপবিদ্যা। প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস, বায়ুর উপাদান,
ধর্ম, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, আবহাওয়া ও জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ, জলবায়ু অঞ্চল প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে জলবায়ুবিদ্যা বলে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূত্বক, পৃথিবীর উপরিভাগের পরিবর্তন, বিভিন্ন ভূমিরূপ ও এর পরিবর্তন প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে ভূমিরূপবিদ্যা বলে।
উক্ত শাখা দুটির মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। যেমন-
জলবায়ুবিদ্যা জলবায়ুর উপাদান যেমন- বায়ুর চাপ, তাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আর, ভূমিরূপবিদ্যা ভূপৃষ্ঠের উঁচু-নিচু অংশগুলো; যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, নদী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
জলবায়ুর নিয়ামক হিসেবে অক্ষাংশ, ভূমির ঢাল, পর্বতের অবস্থান, সমুদ্র থেকে দূরত্ব ইত্যাদি বিষয় জলবায়ুবিদ্যায় আলোচিত হয়। ভূপৃষ্ঠ পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন, নগ্নীভবন ইত্যাদি ভূমিরূপবিদ্যায় আলোচিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, জলবায়ুবিদ্যা ও ভূমিরূপবিদ্যা শাখা দুটির বিষয়বস্তুর মধ্যে যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।