HSCGeography 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
একাদশ শ্রেণির ছাত্ররা একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করে যে সেমিনারে আলোচ্য বিষয় ছিল ভূমিতত্ত্ব, সমুদ্রতত্ত্ব, জলবায়ুতত্ত্ব। বিষয়গুলো আলোচনা করতে আরও অনেক বিষয় ওঠে আসে। যাতে ছাত্ররা বুঝতে পারে প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের গুরুত্ব রয়েছে।
ক
বায়ুমণ্ডল কী?
উত্তর
পৃথিবীর চারপাশে হাজার হাজার কিলোমিটার পুরু বায়ুর যে স্তর আছে তাই বায়ুমণ্ডল।
খ
জলবায়ুর নিয়ামক কাকে বলে?
উত্তর
যে সকল উপাদান জলবায়ুর পরিবর্তন সাধনে প্রভাববিস্তার করে থাকে, তাকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ অক্ষাংশ, উচ্চতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র থেকে, দূরত্ব প্রভৃতি। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে এ নিয়ামকগুলোর প্রভাব ভিন্ন হওয়ায় স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।
গ
উক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও প্রাকৃতিক ভূগোলে আর কী কী বিষয় আলোচনা করা হয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়; যথা- ভূমিরূপতত্ত্ব, সমুদ্রতত্ত্ব, জলবায়ুতত্ত্ব রয়েছে। এগুলো ছাড়াও রয়েছে মৃত্তিকাবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যা।
পৃথিবীর বহিরাবরণ ও ভূত্বকের গঠন উপাদান মৃত্তিকা ভূগোলের আওতায় পড়ে। মৃত্তিকার উৎপত্তি, গঠন, ভূতাত্ত্বিক সময় মাপনি অনুযায়ী মৃত্তিকার গঠন ও বিন্যাস, অঞ্চল ও সময়ভেদে মৃত্তিকার বিস্তরণ, নৈসর্গিক প্রক্রিয়া, মাটির পার্শ্বচিত্র, মাটির ভৌত গুণাবলি, ঘনত্ব, মৃত্তিকার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের বিন্যাস প্রভৃতি সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়; যা প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্গত।
প্রাকৃতিক ভূগোলের আরেকটি বিষয় হচ্ছে উদ্ভিদবিদ্যা। এ শাখায় সময় ও স্থানভেদে উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের ওপর উদ্ভিদের প্রভাব, সময় ও স্থানভেদে উদ্ভিদের বিন্যাস, উদ্ভিদ বাস্তববিদ্যা, উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, বাস্তুসংস্থান অভিযোজন, উদ্ভিদ ক্রমাগমনের নিয়ামক প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, প্রাকৃতিক ভূগোলের মাধ্যমে প্রকৃতিপ্রদত্ত ভূপৃষ্ঠের ভূঅভ্যন্তর এবং ভূপৃষ্ঠের বাইরের অবয়ব সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা যায়।
ঘ
প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে-এর সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর
প্রাকৃতিক ভূগোল ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গঠন, এর বিভিন্ন স্তর বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। প্রাকৃতিক ভূগোলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বায়ুমণ্ডল। হাজার হাজার কিলোমিটার পুরু যে বায়ু সমগ্র পৃথিবীর চারপাশে বেষ্টন করে আছে তাই বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা, বায়ুর স্তরবিন্যাস, বায়ুর উপাদান,' বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও চাপ, বায়ুপ্রবাহের কারণ, বায়ুপ্রবাহের দিক, বায়ুর শ্রেণিবিভাগ, বিভিন্ন প্রকার ঘূর্ণিবাত, জলীয়বাষ্প, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের কারণ, বৃষ্টিবলয়, বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ এবং বিভিন্ন প্রকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।
ভূত্বকের অবনত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশিকে বারিমণ্ডলের অংশ। অর্থাৎ সাগর-মহাসাগরের উৎপত্তি, সমুদ্রতলদেশের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রের পানির বৈশিষ্ট্য, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, কীভাবে স্থলমণ্ডল ও বারিমণ্ডল সৃষ্টি হলো, ভূপৃষ্ঠের সুবিশাল এলাকা সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, সমুদ্র তরঙ্গ ও তার কাজ প্রভৃতি যাবতীয় সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক তথ্য প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। পৃথিবীর উপরিভাগ যা স্থলভাগ নামে পরিচিত। একে অশ্মমণ্ডল বলা হয়। অশ্ম অর্থ শিলা। তাই একে শিলামণ্ডলও বলা হয়। এটি প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের মাধ্যমে জানতে পারি। অর্থাৎ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, তার উপাদানসমূহ, পৃথিবীর জন্ম, শিলার উৎপত্তি, ভূ-আন্দোলন, পৃথিবীর জন্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন ভূগোলবিদের মতবাদ, কীভাবে পাহাড় থেকে নদীর উৎপত্তি, হিমবাহ ও বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কীভাবে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি।
পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনে প্রাকৃতিক ভূগোলের গুরুত্ব অপরিসীম
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো