উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' দলের পর্যবেক্ষণকৃত বিষয়গুলো হচ্ছে পাহাড়ী এলাকায় শিলা ও খনিজ এবং উপকূলীয় তরঙ্গ, পলি, তরঙ্গ গতি যা যথাক্রমে ভূমিরূপ বিদ্যা ও উপকূলীয় ভূগোল শাখার অন্তর্গত।
ভূত্বকের ইতিহাস ও গঠন অনুসন্ধান করা হয় ভূমিরূপবিদ্যায়। মাঠ পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক পরীক্ষণ এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূজ্যামিতিক পদ্ধতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর পরিবর্তনশীলতা বিষয়ে অধ্যয়ন করা হয়। পাশাপাশি নদীর কার্য, হিমবাহের কার্য, শিলার উৎপত্তি, নদীর উৎপত্তি প্রভৃতি বিষয়ে অধ্যয়ন করা হয়। প্লেট সঞ্চালন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, সুনামি, শিলা ও খনিজ ইত্যাদি সম্পর্কে ভূগোলের এ অংশে অধ্যয়ন করা হয়। এছাড়া পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপ পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি নিয়ে অধ্যয়ন করা হয়।
পক্ষান্তরে, সমুদ্র এবং ভূমির মধ্যে গতিশীল আন্তঃসম্পর্ক সংঘটনকারী বিদ্যাই হলো উপকূলীয় ভূগোল। উপকূলীয় তরঙ্গ, পলি, তরঙ্গ গতি, উপকূলীয় আবহাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে উপকূলীয় ভূগোলে অধ্যয়ন করে থাকে। সমুদ্র আইন, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে উপকূলীয় ভূগোলে অধ্যয়ন করা হয়।
ভূমিরূপতত্ত্ব ও উপকূলীয় ভূগোলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ নিয়ে ভূমিরূপতত্ত্বে-অধ্যয়ন করা হয়। অর্থাৎ উপকূলীয় এলাকার মহীসোপানও ভূমিরূপতত্ত্বের অধ্যয়নের বিষয়বস্তু আবার উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিকম্প, প্লেট সঞ্চালন ইত্যাদি উপকূলীয় ভূগোলের অধ্যয়নের বিষয়বস্তু।