প্রাকৃতিক ভূগোল ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গঠন, এর বিভিন্ন স্তর বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। প্রাকৃতিক ভূগোলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বায়ুমণ্ডল। হাজার হাজার কিলোমিটার পুরু যে বায়ু সমগ্র পৃথিবীর চারপাশে বেষ্টন করে আছে তাই বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা, বায়ুর স্তরবিন্যাস, বায়ুর উপাদান,' বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও চাপ, বায়ুপ্রবাহের কারণ, বায়ুপ্রবাহের দিক, বায়ুর শ্রেণিবিভাগ, বিভিন্ন প্রকার ঘূর্ণিবাত, জলীয়বাষ্প, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের কারণ, বৃষ্টিবলয়, বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ এবং বিভিন্ন প্রকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।
ভূত্বকের অবনত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশিকে বারিমণ্ডলের অংশ। অর্থাৎ সাগর-মহাসাগরের উৎপত্তি, সমুদ্রতলদেশের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রের পানির বৈশিষ্ট্য, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, কীভাবে স্থলমণ্ডল ও বারিমণ্ডল সৃষ্টি হলো, ভূপৃষ্ঠের সুবিশাল এলাকা সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, সমুদ্র তরঙ্গ ও তার কাজ প্রভৃতি যাবতীয় সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক তথ্য প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। পৃথিবীর উপরিভাগ যা স্থলভাগ নামে পরিচিত। একে অশ্মমণ্ডল বলা হয়। অশ্ম অর্থ শিলা। তাই একে শিলামণ্ডলও বলা হয়। এটি প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের মাধ্যমে জানতে পারি। অর্থাৎ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, তার উপাদানসমূহ, পৃথিবীর জন্ম, শিলার উৎপত্তি, ভূ-আন্দোলন, পৃথিবীর জন্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন ভূগোলবিদের মতবাদ, কীভাবে পাহাড় থেকে নদীর উৎপত্তি, হিমবাহ ও বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কীভাবে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি।
পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনে প্রাকৃতিক ভূগোলের গুরুত্ব অপরিসীম