উদ্দীপকে উল্লেখিত মানিক লাল তার এলাকায় প্রান্তিক চাষিদের নিয়ে একটি "কৃষি উন্নয়ন সংঘ" গড়ে তোলে। যেখানে "সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে" এর ভিত্তিতে স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে কাজ করবে। এটি একটি কৃষি সমবায়। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে মানিক লালের কৃষি সমবায়ের উদ্যোগটির গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল কৃষি প্রধান দেশে কৃষি সমবায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কৃষি জমিগুলোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে বিভক্ততা এবং বিচ্ছিন্নতা কৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে উফশী বীজ, প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যথা সময়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় পণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বনে চাষাবাদ করা হয় বিধায় কৃষকের পণ্য উৎপাদন অনেক বেশি হয়। ফলে বাংলাদেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। কিন্তু এরা এলাকার ধনী কৃষক ও মহাজনের কাছে সার্বক্ষণিক বাধা থাকে। ফলে তারা স্বাধীনভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে না। অথচ কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি পণ্য উৎপাদন ধারা বাস্তবায়ন করলে কৃষক মত প্রকাশের পাশাপাশি অধিক ফলন অর্জন করতে পারে যা বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এছাড়া কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো যায়। কৃষি সমবায় বাংলাদেশের কৃষকদের নিরক্ষরতা দূর করা, উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ কৃষি পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, বণ্টন ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষাদান করতে পারে।
উপরের আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে মানিক লালের উদ্যোগটির গুরুত্ব অপরিসীম।