উদ্দীপকের দেশটি হলো বাংলাদেশ। এই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কৃষির ক্ষেত্র ফসল উৎপাদন, পশুপালন ও মৎস্য পালন প্রভৃতির ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশের খাদ্যশস্য হিসেবে এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে দুধরনের কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, ডাল, তেল বীজ, আলু, ভুট্টা, সবজি, ফলমূল প্রভৃতি। অর্থকরী ফসলের মধ্যে রয়েছে পাট, চা, আখ, তুলা, তামাক, ফুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
উল্লিখিত খাদ্যশস্যগুলো যে এদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদার অনেকাংশেই মিটিয়ে থাকে। এতে দেশজ উৎপাদনের কারণে বিদেশ থেকে কম আমদানি করতে হয়। ফলে অর্থনৈতিকভাবে দেশে খাদ্যশস্যতে সাশ্রয়ী অবস্থা বিরাজ করে। অন্যদিকে অর্থকরী ফসল উৎপাদন করায় যেমন- চা, পাট প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে কৃষির উপখাতগুলোর মধ্যে পশুপালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ উপখাতে প্রধানত হাঁস, মুরগি, গবাদিপশু বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। উক্ত পশুপাখিগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার মানুষ প্রতিপালন করে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করছে। অনেক দরিদ্র ও বেকার লোকজন উক্ত পশুপাখি প্রতিপালন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এতে দেশের জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের চারদিকে নদীগুলো জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে এবং দক্ষিণে রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর। উক্ত নদনদী এবং সাগরে নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এটি কেবল খাদ্যই নয়, বরং রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন হয়। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মৎস্য আমাদের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিমাণ ৪৭৮২৫ লাখ হেক্টর, যেগুলো রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, ঘনিয়া, ইলিশ, চিংড়ি, বোয়াল, পাঙ্গাস, শোল, মাগুর, শিং, কই প্রভৃতি মাছ চাষ ও উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশ মাছ রপ্তানিতে বিশ্বে সপ্তম। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ির অবস্থান চতুর্থ।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লিখিত কৃষিখাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।.