Chapter 4 : কৃষি Geography 2nd Paper

HSC Geography 2nd Paper এর Chapter 4 : কৃষি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৮৬

প্রশ্ন

Geography 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dinajpur · 2017

ক
মিশ্র কৃষি কাকে বলে?

উত্তর

কোনো কৃষি খামারের এক অংশে কৃষিকাজ করে ফসল উৎপাদন এবং অপর অংশে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রতিপালিত হলে তাকে মিশ্র কৃষি বলে। যেমন- একই পুকুরে মাছ ও হাঁস পালন।
খ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি এদেশের অর্থনীতির প্রধান ও একক বৃহত্তম খাত। দেশের মোট উৎপাদনের ২১ শতাংশের বেশি কৃষিখাত থেকে আসে। এদেশের শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ প্রতি বছর কৃষির প্রধানতম খাত যেমন- ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।
গ
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলে কৃষির ভৌগোলিক কোন নিয়ামকসমূহ বেশী প্রভাব বিস্তার করে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মানচিত্রের 'ক' অঞ্চলটি হলো দক্ষিণ এশিয়া। অঞ্চলটি কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল হতে এগিয়ে রয়েছে। যেকোনো অঞ্চলে কৃষির ফলনের জন্য অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামক একান্ত আবশ্যক। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলো যেমন- ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, মৃত্তিকা, নদনদী প্রভৃতি অধিক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক (মূলধন, শ্রমিক, বাজার) ও সাংস্কৃতিক (জনসংখ্যা, প্রযুক্তি, সরকারি নীতি) নিয়ামকও এ অঞ্চলের কৃষির উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। নিচে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজে ভৌগোলিক নিয়ামকগুলো বর্ণনা করা হলো- ১. সমতল ভূমিতে যত নিবিড় কৃষিকাজ করা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলে তা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশই সমুদ্র তীরবর্তী সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষির উপর ভূপ্রকৃতির ভূমিকা তাই অনেক বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি ঢালু জমিতে চা, কফি, রাবার প্রভৃতি এবং সমতল ভূমিতে ধান, পাট, সরিষা, ভূট্টা প্রভৃতি ভাল উৎপাদিত হয়। ২. দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজ জলবায়ুর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ধান ও গম উৎপাদনের জন্য যথাক্রমে ১৬-২৭ এবং ১০-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। ১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ধান চাষ ভাল হয়। এ অঞ্চলে ক্রান্তীয় মৌসুমি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে ধান ও গম ভাল জন্মে। যেমন- থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ। ৩. দক্ষিণ এশিয়ার উর্বর পলি দোআঁশ মৃত্তিকায় ধান, পাট, ভূট্টা প্রভৃতি কৃষি ফসল ভাল জন্মে। ৪. নদ-নদী পানির অন্যতম প্রধান উৎস। তাছাড়া পলি সঞ্চয়ের কারণে নদ-নদীর উভয় তীর কৃষি চাষের জন্য উযোগী। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নদী অববাহিকা অঞ্চলে অধিক কৃষিকাজ হয়ে থাকে।
ঘ
উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত খাদ্যশস্যটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলটি হলো প্রেইরি যেখানে ব্যাপকভাবে গম উৎপাদিত হয়। অভীক মিসিসিপি-মিসৌরী নদীবাহিত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যায়। সেখানে মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য গম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দানাদার শস্যের মধ্যে গম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের প্রায় ১৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। সারণি: প্রধান প্রধান দেশের গম আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ- ২০১৫ question image রপ্তানিকারক দেশসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইউক্রেন প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যথাক্রমে ১৪.৫ ও ১৬.২ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে। আমদানিকারক দেশসমূহ : গম আমদানিকারক দেশগুলো অনিয়মিতভাবে বা অনির্ধারিতভাবে আমদানি করে থাকে। যেমন- ভারত, পাকিস্তান, কিউবা প্রভৃতি দেশে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। আবার আলজেরিয়া, চীনে কমছে। ২০১৫ সালে প্রধান গম আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ইতালি, মিশর, ব্রাজিল, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়া, স্পেন প্রভৃতি দেশ। গমের বিশ্ব বাণিজ্যে আরেকটি দিক হলো সাধারণত উন্নত দেশগুলো গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো তা আমদানি করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dinajpur · 2017

ক
মিশ্র কৃষি কাকে বলে?

উত্তর

কোনো কৃষি খামারের এক অংশে কৃষিকাজ করে ফসল উৎপাদন এবং অপর অংশে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রতিপালিত হলে তাকে মিশ্র কৃষি বলে। যেমন- একই পুকুরে মাছ ও হাঁস পালন।
খ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি এদেশের অর্থনীতির প্রধান ও একক বৃহত্তম খাত। দেশের মোট উৎপাদনের ২১ শতাংশের বেশি কৃষিখাত থেকে আসে। এদেশের শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ প্রতি বছর কৃষির প্রধানতম খাত যেমন- ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।
গ
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলে কৃষির ভৌগোলিক কোন নিয়ামকসমূহ বেশী প্রভাব বিস্তার করে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মানচিত্রের 'ক' অঞ্চলটি হলো দক্ষিণ এশিয়া। অঞ্চলটি কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল হতে এগিয়ে রয়েছে। যেকোনো অঞ্চলে কৃষির ফলনের জন্য অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামক একান্ত আবশ্যক। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলো যেমন- ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, মৃত্তিকা, নদনদী প্রভৃতি অধিক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক (মূলধন, শ্রমিক, বাজার) ও সাংস্কৃতিক (জনসংখ্যা, প্রযুক্তি, সরকারি নীতি) নিয়ামকও এ অঞ্চলের কৃষির উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। নিচে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজে ভৌগোলিক নিয়ামকগুলো বর্ণনা করা হলো- ১. সমতল ভূমিতে যত নিবিড় কৃষিকাজ করা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলে তা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশই সমুদ্র তীরবর্তী সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষির উপর ভূপ্রকৃতির ভূমিকা তাই অনেক বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি ঢালু জমিতে চা, কফি, রাবার প্রভৃতি এবং সমতল ভূমিতে ধান, পাট, সরিষা, ভূট্টা প্রভৃতি ভাল উৎপাদিত হয়। ২. দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজ জলবায়ুর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ধান ও গম উৎপাদনের জন্য যথাক্রমে ১৬-২৭ এবং ১০-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। ১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ধান চাষ ভাল হয়। এ অঞ্চলে ক্রান্তীয় মৌসুমি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে ধান ও গম ভাল জন্মে। যেমন- থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ। ৩. দক্ষিণ এশিয়ার উর্বর পলি দোআঁশ মৃত্তিকায় ধান, পাট, ভূট্টা প্রভৃতি কৃষি ফসল ভাল জন্মে। ৪. নদ-নদী পানির অন্যতম প্রধান উৎস। তাছাড়া পলি সঞ্চয়ের কারণে নদ-নদীর উভয় তীর কৃষি চাষের জন্য উযোগী। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নদী অববাহিকা অঞ্চলে অধিক কৃষিকাজ হয়ে থাকে।
ঘ
উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত খাদ্যশস্যটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলটি হলো প্রেইরি যেখানে ব্যাপকভাবে গম উৎপাদিত হয়। অভীক মিসিসিপি-মিসৌরী নদীবাহিত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যায়। সেখানে মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য গম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দানাদার শস্যের মধ্যে গম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের প্রায় ১৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। সারণি: প্রধান প্রধান দেশের গম আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ- ২০১৫ question image রপ্তানিকারক দেশসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইউক্রেন প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যথাক্রমে ১৪.৫ ও ১৬.২ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে। আমদানিকারক দেশসমূহ : গম আমদানিকারক দেশগুলো অনিয়মিতভাবে বা অনির্ধারিতভাবে আমদানি করে থাকে। যেমন- ভারত, পাকিস্তান, কিউবা প্রভৃতি দেশে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। আবার আলজেরিয়া, চীনে কমছে। ২০১৫ সালে প্রধান গম আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ইতালি, মিশর, ব্রাজিল, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়া, স্পেন প্রভৃতি দেশ। গমের বিশ্ব বাণিজ্যে আরেকটি দিক হলো সাধারণত উন্নত দেশগুলো গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো তা আমদানি করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

লাঙল-জোয়ালের বদলে ট্রাক্টরের ব্যবহার বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খণ্ড খণ্ড জমিগুলোতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ফলে গনি মিয়ার (প্রাচীন পদ্ধতির কৃষক) বংশধরগণ বর্তমানে ফসল উৎপাদনের সকল পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতার জন্য কৃষিক্ষেত্রের সুফল ভোগ করছে।

Dhaka · 2017

ক
কৃষিকাজ কাকে বলে?

উত্তর

ভূমিকর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি কাজ বলে। যেমন- গম চাষ।
খ
কানাডার প্রেইরী তৃণভূমিকে "পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি" বলা হয় কেন?

উত্তর

কানাডার প্রেইরি তৃণভূমি অঞ্চলটি বিশ্বের একক বৃহত্তম গম উৎপাদক অঞ্চল। স্থানীয় চাহিদার অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গম রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হয়। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে 'পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় কিভাবে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদের কথা বলা হয়েছে। যেমন- লাঙল-জোয়ালের বদলে ট্রাক্টরের ব্যবহার। মূলত বাংলাদেশের কৃষিতে ট্রাক্টর, ড্রাম সিডার, হারভেস্টার মেশিন, হিমাগার প্রযুক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিতে স্বল্প পরিসরে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু তা যেন বিপ্লব বয়ে এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রাক্টর ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে অনেক জমি চাষ করা যাচ্ছে। বীজ বপনে ড্রাম সিডার ব্যবহারের ফলে অল্প পরিশ্রমে বিস্তীর্ণ জমিতে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা সম্ভব হচ্ছে। আবার ফসল সংগ্রহে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে যা খরচের পাশাপাশি আমাদের অনেক মূল্যবান সময়ও বাঁচিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় হিমাগার নির্মিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন পচনশীল দ্রব্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এতে কৃষকগণ আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম যা কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে।
ঘ
উদ্দীপকের উল্লিখিত দু'টি সময়ের কৃষি পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকে দু'টি সময়ের তথা প্রাচীন ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক কৃষি বলতে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ব্যবহার এবং ফসলাদি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার দ্বারা কৃষি কাঠামোয় পরিবর্তন আনয়নকে বুঝায়। আধুনিক যন্ত্রপাতির দ্বারা জমি চাষ, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ বপন, কীটনাশক ওষুধ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার, উন্নত সেচ পদ্ধতি চালু এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ফসলের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ সবই কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। সনাতন পদ্ধতিতে কাঠের লাঙল ও পশুর দ্বারা জমি চাষ করা হতো। সেচের জন্য যে পানির প্রয়োজন হতো তার জন্য প্রকৃতির দেয়া বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হতো। সার হিসেবে জমিতে গোবর বা অন্য কোনো দেশী সার ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ট্রাক্টর, বুলডোজার, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার, পাওয়ার পাম্প প্রভৃতি যন্ত্রপাতির সাহায্যে কৃষি কাজ করা হয়। বাংলাদেশে যান্ত্রিক চাষ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি সম্ভব। এছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপ, শক্তিচালিত পাম্প প্রভৃতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে উন্নত সেচ ব্যবস্থা চালু করলে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ট্রাক্টরের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় একই সময়ে প্রায় চারগুণ বেশি জমি চাষ করা যায়। উপরন্তু এদেশে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত জাতের গরুর অভাব এবং গো খাদ্যেরও দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। তাই পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহারে এ সমস্যার সমাধান সহজ। এছাড়া শ্রমিকের অভাব এবং অত্যধিক মজুরি কৃষিক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক যে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে তা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। উপরিউক্ত আলোচনার ফলে বুঝা যায়, বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

লাঙল-জোয়ালের বদলে ট্রাক্টরের ব্যবহার বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খণ্ড খণ্ড জমিগুলোতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ফলে গনি মিয়ার (প্রাচীন পদ্ধতির কৃষক) বংশধরগণ বর্তমানে ফসল উৎপাদনের সকল পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতার জন্য কৃষিক্ষেত্রের সুফল ভোগ করছে।

Dhaka · 2017

ক
কৃষিকাজ কাকে বলে?

উত্তর

ভূমিকর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি কাজ বলে। যেমন- গম চাষ।
খ
কানাডার প্রেইরী তৃণভূমিকে "পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি" বলা হয় কেন?

উত্তর

কানাডার প্রেইরি তৃণভূমি অঞ্চলটি বিশ্বের একক বৃহত্তম গম উৎপাদক অঞ্চল। স্থানীয় চাহিদার অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গম রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হয়। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে 'পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় কিভাবে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদের কথা বলা হয়েছে। যেমন- লাঙল-জোয়ালের বদলে ট্রাক্টরের ব্যবহার। মূলত বাংলাদেশের কৃষিতে ট্রাক্টর, ড্রাম সিডার, হারভেস্টার মেশিন, হিমাগার প্রযুক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিতে স্বল্প পরিসরে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু তা যেন বিপ্লব বয়ে এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রাক্টর ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে অনেক জমি চাষ করা যাচ্ছে। বীজ বপনে ড্রাম সিডার ব্যবহারের ফলে অল্প পরিশ্রমে বিস্তীর্ণ জমিতে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা সম্ভব হচ্ছে। আবার ফসল সংগ্রহে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে যা খরচের পাশাপাশি আমাদের অনেক মূল্যবান সময়ও বাঁচিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় হিমাগার নির্মিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন পচনশীল দ্রব্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এতে কৃষকগণ আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম যা কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে।
ঘ
উদ্দীপকের উল্লিখিত দু'টি সময়ের কৃষি পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকে দু'টি সময়ের তথা প্রাচীন ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক কৃষি বলতে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ব্যবহার এবং ফসলাদি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার দ্বারা কৃষি কাঠামোয় পরিবর্তন আনয়নকে বুঝায়। আধুনিক যন্ত্রপাতির দ্বারা জমি চাষ, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ বপন, কীটনাশক ওষুধ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার, উন্নত সেচ পদ্ধতি চালু এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ফসলের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ সবই কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। সনাতন পদ্ধতিতে কাঠের লাঙল ও পশুর দ্বারা জমি চাষ করা হতো। সেচের জন্য যে পানির প্রয়োজন হতো তার জন্য প্রকৃতির দেয়া বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হতো। সার হিসেবে জমিতে গোবর বা অন্য কোনো দেশী সার ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ট্রাক্টর, বুলডোজার, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার, পাওয়ার পাম্প প্রভৃতি যন্ত্রপাতির সাহায্যে কৃষি কাজ করা হয়। বাংলাদেশে যান্ত্রিক চাষ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি সম্ভব। এছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপ, শক্তিচালিত পাম্প প্রভৃতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে উন্নত সেচ ব্যবস্থা চালু করলে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ট্রাক্টরের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় একই সময়ে প্রায় চারগুণ বেশি জমি চাষ করা যায়। উপরন্তু এদেশে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত জাতের গরুর অভাব এবং গো খাদ্যেরও দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। তাই পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহারে এ সমস্যার সমাধান সহজ। এছাড়া শ্রমিকের অভাব এবং অত্যধিক মজুরি কৃষিক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক যে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে তা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। উপরিউক্ত আলোচনার ফলে বুঝা যায়, বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাকির গ্রীষ্মের ছুটিতে মামা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সবুজে আচ্ছাদিত বাগানের মাঝে উঁচু উঁচু বৃক্ষ দেখতে পায়। ব্যাপক এলাকাব্যাপী চাষ হলেও সেখানকার ভূমিরূপ সমতল নয়। কারণ জানতে চাইলে তার মামা জানালেন যে, উক্ত ফসলের জন্য মাঝে মাঝে ছায়া এবং কিছু উঁচু জমির প্রয়োজন। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে উক্ত কৃষিপণ্যের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

Dhaka · 2017

ক
কৃষির সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে কৃষি। যেমন- গম চাষ।
খ
ভূমিরূপ কীভাবে ধান চাষকে প্রভাবিত করে?- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভূমিরূপ ধান চাষকে প্রভাবিত করে থাকে। উচ্চভূমি অপেক্ষা সমতল ও নিম্নভূমি ধান চাষের উপযোগী। বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ ধান নদী গঠিত প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চলে (যেমন- বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম) উৎপন্ন হয়। এছাড়া বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে ধানের চাষ করা হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিপণ্যটি বরিশাল অঞ্চলে কেন হয় না? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিপণ্যটি হচ্ছে চা। বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে ভূপ্রকৃতি ও মৃত্তিকা অনুকূল না হওয়ায় চা উৎপাদন সম্ভব হয় না। চা চাষের জন্যে যে অনুকূল প্রাকৃতিক অবস্থা প্রয়োজন তা বরিশালে নেই। যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ থেকে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পার্বত্য ঢালু অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। পার্বত্য ঢালু অঞ্চল অপেক্ষাকৃত শীতল এবং সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। চা বাগান তৈরির জন্য এ ধরনের পরিবেশ অবশ্য প্রয়োজন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চা গাছের উচ্চতা পাতার গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। অথচ বরিশাল সমুদ্র তীরবর্তী একটি অঞ্চল যা সমুদ্রতল হতে ১০ ফুটের বেশি উঁচু নয়। বরিশালের মৃত্তিকাও চা চাষের জন্য উপযোগী নয়। এখানে মৃত্তিকা উর্বর দোআঁশ ও পলি দোঁআশ। অথচ চা চাষের জন্য কিছুটা অম্লধর্মী অথবা লৌহ মিশ্রিত মৃত্তিকা প্রয়োজন। সুতরাং বলা যায়, প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ অনুকূল না হওয়ায় বরিশালে চা উৎপন্ন হয় না।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ কৃষিপণ্যটির বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ কৃষিপণ্যটি হচ্ছে চা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চায়ের অবদান অসামান্য। ১৮২৮ সাল থেকে এ দেশে চায়ের বাগান গড়ে উঠেছে (প্রথম চট্টগ্রামের কোদালায়)। ১৯৫৬-৬০ সালের মধ্যে সিলেটের মালনিছড়ায় পরিকল্পিত চা বাগান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এদেশে ১৬৯টি চা বাগান রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৬৬.৩৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন হয়। এদেশে ৫৯৬০৯.৪৩ হেক্টর এলাকায় চা বাগানে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত। এছাড়া রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কর্মচারী এবং ১ হাজারের মতো কর্মকর্তা। বর্তমানে সিলেট এবং চট্টগ্রাম ছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের চায়ের উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ৩০.৯ মিলিয়ন কেজি। ১৯৯০ সালে ৪৫.৮ এবং ২৬.৯ মিলিয়ন কেজি। ২০০০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৫২.৬৪ এবং ১৮.১ মিলিয়ন কেজি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ৫৯.১৬ মিলিয়ন কেজি উৎপন্ন করে ০.৯১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে। ২০২৩ সালে মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে (Strategic development plan 2012-2023) | উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেকারত্ব লাঘব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে চা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। যদিও চা বর্তমানে আর রপ্তানিতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে চায়ের উৎপাদন ও বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩ সালে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে চা রপ্তানি বাণিজ্যেও ভূমিকা রেখে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে অবদান রাখতে পারবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাকির গ্রীষ্মের ছুটিতে মামা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সবুজে আচ্ছাদিত বাগানের মাঝে উঁচু উঁচু বৃক্ষ দেখতে পায়। ব্যাপক এলাকাব্যাপী চাষ হলেও সেখানকার ভূমিরূপ সমতল নয়। কারণ জানতে চাইলে তার মামা জানালেন যে, উক্ত ফসলের জন্য মাঝে মাঝে ছায়া এবং কিছু উঁচু জমির প্রয়োজন। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে উক্ত কৃষিপণ্যের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

Dhaka · 2017

ক
কৃষির সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে কৃষি। যেমন- গম চাষ।
খ
ভূমিরূপ কীভাবে ধান চাষকে প্রভাবিত করে?- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভূমিরূপ ধান চাষকে প্রভাবিত করে থাকে। উচ্চভূমি অপেক্ষা সমতল ও নিম্নভূমি ধান চাষের উপযোগী। বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ ধান নদী গঠিত প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চলে (যেমন- বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম) উৎপন্ন হয়। এছাড়া বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে ধানের চাষ করা হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিপণ্যটি বরিশাল অঞ্চলে কেন হয় না? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিপণ্যটি হচ্ছে চা। বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে ভূপ্রকৃতি ও মৃত্তিকা অনুকূল না হওয়ায় চা উৎপাদন সম্ভব হয় না। চা চাষের জন্যে যে অনুকূল প্রাকৃতিক অবস্থা প্রয়োজন তা বরিশালে নেই। যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ থেকে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পার্বত্য ঢালু অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। পার্বত্য ঢালু অঞ্চল অপেক্ষাকৃত শীতল এবং সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। চা বাগান তৈরির জন্য এ ধরনের পরিবেশ অবশ্য প্রয়োজন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চা গাছের উচ্চতা পাতার গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। অথচ বরিশাল সমুদ্র তীরবর্তী একটি অঞ্চল যা সমুদ্রতল হতে ১০ ফুটের বেশি উঁচু নয়। বরিশালের মৃত্তিকাও চা চাষের জন্য উপযোগী নয়। এখানে মৃত্তিকা উর্বর দোআঁশ ও পলি দোঁআশ। অথচ চা চাষের জন্য কিছুটা অম্লধর্মী অথবা লৌহ মিশ্রিত মৃত্তিকা প্রয়োজন। সুতরাং বলা যায়, প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ অনুকূল না হওয়ায় বরিশালে চা উৎপন্ন হয় না।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ কৃষিপণ্যটির বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ কৃষিপণ্যটি হচ্ছে চা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চায়ের অবদান অসামান্য। ১৮২৮ সাল থেকে এ দেশে চায়ের বাগান গড়ে উঠেছে (প্রথম চট্টগ্রামের কোদালায়)। ১৯৫৬-৬০ সালের মধ্যে সিলেটের মালনিছড়ায় পরিকল্পিত চা বাগান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এদেশে ১৬৯টি চা বাগান রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৬৬.৩৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন হয়। এদেশে ৫৯৬০৯.৪৩ হেক্টর এলাকায় চা বাগানে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত। এছাড়া রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কর্মচারী এবং ১ হাজারের মতো কর্মকর্তা। বর্তমানে সিলেট এবং চট্টগ্রাম ছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের চায়ের উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ৩০.৯ মিলিয়ন কেজি। ১৯৯০ সালে ৪৫.৮ এবং ২৬.৯ মিলিয়ন কেজি। ২০০০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৫২.৬৪ এবং ১৮.১ মিলিয়ন কেজি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ৫৯.১৬ মিলিয়ন কেজি উৎপন্ন করে ০.৯১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে। ২০২৩ সালে মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে (Strategic development plan 2012-2023) | উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেকারত্ব লাঘব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে চা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। যদিও চা বর্তমানে আর রপ্তানিতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে চায়ের উৎপাদন ও বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩ সালে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে চা রপ্তানি বাণিজ্যেও ভূমিকা রেখে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে অবদান রাখতে পারবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো