উদ্দীপকে দেশদ্বয় হলো চীন ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশে প্রচুর ধান উৎপাদন হলেও এর অধিক জনসংখ্যার জন্য ধান আমদানি করতে হয়।
ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে প্রথম। ২০১৬ সালে এ দেশে ৩ কোটি ৩ লক্ষ ৫০ হাজার হেক্টর জমি চাষ করে ১৪ কোটি ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা হয়। এটা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত ধানের প্রায় ২৮.১৪%। চীনের ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকা, হোয়াংহো নদীর উপত্যকা ইউনান, কোচেচুয়ান ও কুইডো প্রদেশের নদী অববাহিকা, ক্যান্টন ও এর আশেপাশের এলাকা এবং উপকূলীয় এলাকা ও হাইনান দ্বীপে উল্লেখযোগ্য হারে ধান উৎপাদিত হয়।
চীনের হুনান প্রদেশ ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। হেক্টরপ্রতি এত অধিক ধান পৃথিবীর অন্য কোনো স্থানে উৎপন্ন হয় না বলে একে 'ধানের আধার' (Rice Bowl) বলা হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের আবাদি জমির প্রায় ৭০% জমিতে ধানের চাষ হয়ে থাকে। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ধান চাষের বিশেষ উপযোগী হওয়ায় এর প্রায় সর্বত্রই ধানের চাষ হয়। ২০১৪-১৫ সালে ২ কোটি ৮২ লক্ষ একর জমিতে ধানের চাষ করে প্রায় ৩ কোটি ৪৭লক্ষ ১০ হাজার টন ধান উৎপন্ন হয়। গড়ে একরপ্রতি ফলন ছিল প্রায় ১.২৩ টন।
অতএব বলা যায়, আয়তন, জলবায়ু ও মৃত্তিকাজনিত পার্থক্যের কারণে চীন ও বাংলাদেশের ধান উৎপাদনে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।