উদ্দীপকে রবিনের অঞ্চলে মূলত রবিশস্য উৎপাদিত হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সর্বত্র ধানের চাষ ব্যাপক। সেই সাথে চা, পাট ইত্যাদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। কিন্তু অন্যান্য শস্যগুলো যা আমরা খাদ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করি তা রবিশস্য। তাই সেগুলোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব তাৎপর্যপূর্ণ।
রবি মৌসুম, আর্দ্র সময়কালের শেষে শুরু হয় এবং প্রাক খরিফ, খরিফ ফসল, রোপা আমন পর্যন্ত বিস্তৃত। রবি ঋতু শুরু গড় তারিখ হলো দেশের সর্বপশ্চিমে ১-১০ অক্টোবর থেকে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যভাগ ও পূর্বভাগে ১-১০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ ঋতু শেষ হওয়ার গড় সময়কাল হলো দেশের পশ্চিমাঞ্চলে পরবর্তী বছরে ১- ১০ ফেব্রুয়ারি আর উত্তর-পূর্বাংশে ২০-৩১ মার্চ। নভেম্বরের পর বোনা হলে গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, তিল, তামাক, আলু, মিষ্টিআলু, আখ, মসুরি, মটরকলাই ও খেসারির মতো বেশিরভাগ রবি ফসলই ভালো ফলন দেয়। এসব ফসল মাটির অবশিষ্ট আর্দ্রতা সদ্ব্যবহার তথা শীতকালীন সময়ে ঠান্ডায় বেড়ে ওঠার সুবিধাও লাভ করতে পারে।
আলোচনা থেকে আমরা দেখি রবি শস্যগুলো নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে উপৎপাদিত হয়। তাই দেশের সকলের চাহিদা মেটানোর জন্য শস্যগুলো সংরক্ষণ করতে হয় (যেমন- আলুর জন্য হিমাগার) এবং সারাদেশে বণ্টন করতে হয়। আবার সরিষা, আখ ইত্যাদি ফসল হতে তেল, চিনি ইত্যাদি প্রস্তুত করার জন্য তথা দ্রব্যের কাঁচামাল হিসেবেও এ জাতীয় রবিশস্যের বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে।