উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋতু হলো শীত।ঋতু যখন বাংলাদেশে রবিশস্য উৎপন্ন হয়। এটি ছাড়া বাংলাদেশে ঋতুভেদে গ্রীষ্মকালীন (ভাদইশস্য)। নিচে রবিশস্যের (শীতকালীন) সাথে ভাদই ও খরিপ শস্যের বর্ষাকালীন তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
শীতকালের শুরুতে বীজ বপন করে যেসব ফসল চাষ করা হয় তাকে রবিশস্য বলা হয়। রবিশস্যের মধ্যে রয়েছে গম, সরিষা, মটর, কলাই, মসুরি ইত্যাদি। রবিশস্যের এই উৎপন্ন ফসল শীতে ঋতুকে রবি মৌসুম বলা হয়। রবি মৌসুম শুরু হয় নভেম্বরে এবং শেষ হয় এপ্রিলে। মাঘ মাসের শেষের দিকে যে বৃষ্টি হয় তার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের নিচু এলাকায় কৃষকগণ রোপা বোরো ধানের চাষ করেন। এ ফসল সাধারণত চৈত্র বা বৈশাখ মাসে কাটা হয়। শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দকারী ফসল গম, যব, ভুট্টা, ছোলা, মুগ, মসুর, মটর, মাসকলাই, খেসারি, সরিষা, তিল, তিসি, তামাক, আলু প্রভৃতি শীতকালে 'রবিশস্য' হিসেবে চাষ করা হয়।
অপরদিকে বর্ষাকালের আগমনের সাথে সাথে যে ফসলের চাষ শুরু হয় তাকে খরিফ ফসল বলে। খরিফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'হৈমন্তিক'। ইংরেজি মে মাস থেকে শুরু করে পুরো অক্টোবর পর্যন্ত খরিফ ফসলের চাষ হয়। এ সময়ে স্থানভেদে বোনা, রোপা ও জলী আমন ধান হেমন্তের দিনগুলোতে কৃষকের ঘরে উঠে। এজন্য খরিফ ঋতুর ধানকে 'হৈমন্তিক' এবং এ ফসল ঋতুকে হৈমন্তিক ঋতু নামে অভিহিত করা হয়। এ ঋতুতে উৎপন্ন ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, বোনা আমন, রোপা আমন, পাট, তিল, গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি, আদা, হলুদ, গোলমরিচ, কাঁচামরিচ, কচু, তুলা, মুগ, মাষকলাই ইত্যাদি।