উদ্দীপকে দু'টি সময়ের তথা প্রাচীন ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে।
আধুনিক কৃষি বলতে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ব্যবহার এবং ফসলাদি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার দ্বারা কৃষি কাঠামোয় পরিবর্তন আনয়নকে বুঝায়।
আধুনিক যন্ত্রপাতির দ্বারা জমি চাষ, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ বপন, কীটনাশক ওষুধ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার, উন্নত সেচ পদ্ধতি চালু এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ফসলের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ সবই কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। সনাতন পদ্ধতিতে কাঠের লাঙল ও পশুর দ্বারা জমি চাষ করা হতো। সেচের জন্য যে পানির প্রয়োজন হতো তার জন্য প্রকৃতির দেয়া বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হতো। সার হিসেবে জমিতে গোবর বা অন্য কোনো দেশী সার ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ট্রাক্টর, বুলডোজার, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার, পাওয়ার পাম্প প্রভৃতি যন্ত্রপাতির সাহায্যে কৃষি কাজ করা হয়।
বাংলাদেশে যান্ত্রিক চাষ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি সম্ভব। এছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপ, শক্তিচালিত পাম্প প্রভৃতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে উন্নত সেচ ব্যবস্থা চালু করলে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
ট্রাক্টরের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় একই সময়ে প্রায় চারগুণ বেশি জমি চাষ করা যায়। উপরন্তু এদেশে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত জাতের গরুর অভাব এবং গো খাদ্যেরও দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। তাই পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহারে এ সমস্যার সমাধান সহজ। এছাড়া শ্রমিকের অভাব এবং অত্যধিক মজুরি কৃষিক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক যে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে তা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
উপরিউক্ত আলোচনার ফলে বুঝা যায়, বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য।