উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ কৃষিপণ্যটি হচ্ছে চা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চায়ের অবদান অসামান্য।
১৮২৮ সাল থেকে এ দেশে চায়ের বাগান গড়ে উঠেছে (প্রথম চট্টগ্রামের কোদালায়)। ১৯৫৬-৬০ সালের মধ্যে সিলেটের মালনিছড়ায় পরিকল্পিত চা বাগান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এদেশে ১৬৯টি চা বাগান রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৬৬.৩৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন হয়। এদেশে ৫৯৬০৯.৪৩ হেক্টর এলাকায় চা বাগানে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত। এছাড়া রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কর্মচারী এবং ১ হাজারের মতো কর্মকর্তা। বর্তমানে সিলেট এবং চট্টগ্রাম ছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ করা হচ্ছে।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশের চায়ের উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ৩০.৯ মিলিয়ন কেজি। ১৯৯০ সালে ৪৫.৮ এবং ২৬.৯ মিলিয়ন কেজি। ২০০০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৫২.৬৪ এবং ১৮.১ মিলিয়ন কেজি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ৫৯.১৬ মিলিয়ন কেজি উৎপন্ন করে ০.৯১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে। ২০২৩ সালে মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে (Strategic development plan 2012-2023) | উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেকারত্ব লাঘব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে চা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। যদিও চা বর্তমানে আর রপ্তানিতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে চায়ের উৎপাদন ও বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩ সালে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে চা রপ্তানি বাণিজ্যেও ভূমিকা রেখে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে অবদান রাখতে পারবে।