গমের বিশ্ব বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যময়। অন্যদিকে শীর্ষ উৎপাদনকারী হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে চীন উৎপাদিত গম ব্যবহার করে, রপ্তানিতেঅংশগ্রহণ করে না।
বর্তমান বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের প্রায় ১৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। গম এবং তা থেকে প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন পণ্য (আটা, রুটি) রপ্তানির মাধ্যমে কিছু দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে আবার কিছু দেশ (জাপান, ফিলিপাইন) আমদানির মাধ্যমে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। গমের বিশ্ব বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উন্নত দেশগুলো গম রপ্তানি করে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো তা আমদানি করে।
উত্তর আমেরিকার প্রেইরি অঞ্চল (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় গম উৎপাদনকারী অঞ্চল। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ (USDA, ২০২০ অনুযায়ী প্রথম)। এদেশের গম রপ্তানির পরিমাণ ১৪.৫ শতাংশ। WTEx 2021 অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র গম রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং এর রপ্তানির পরিমাণ ৬.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মোট কথা, গম রপ্তানির মাধ্যমে এ দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গম আমদানির মাধ্যমে তাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল অন্যতম; ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন দেশ গম আমদানি করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, গমের বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রেইরি অঞ্চলের দেশ যুক্তরাষ্ট্র গম রপ্তানি করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো গম আমদানি করে থাকে।