উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় ফসলটি ধান, যা ইন্দোনেশিয়ায় অধিক উৎপাদিত ফসল এবং বাংলাদেশের সব জেলাতেই কম বেশি উৎপন্ন হয় ।
যেসব প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক নিয়ামক বা উপাদানের ওপর ধান চাষের সাফল্য নির্ভর করে সেগুলো হলো-
ভূপ্রকৃতি : উচ্চভূমি অপেক্ষা সমতল ও নিম্নভূমি ধান চাষের উপযোগী বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ ধান নদী গঠিত প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। যেমন— দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে ধানের চাষ করা হয়। যেমন— জাপান । জলবায়ু : ধান চাষে জলবায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও উত্তাপ এ দুটি উপাদানের ওপর ধান চাষের উৎপাদন নির্ভর করে।
i. বৃষ্টিপাত : ধান চাষের জন্য বার্ষিক গড় ১০০-২৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাতের দরকার। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টিপাত ১৭৫-২২৫ সে.মি. সেসব স্থানে ধানের ফসল ভালো হয় ।
ii. তাপমাত্রা : ধান চাষের জন্য সাধারণত ১৮°-২৭° সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। ধান বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৬° সে. অপেক্ষা অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন। চারা বৃদ্ধিকালীন সময় তাপমাত্রা ২২°- ২৪° সে. মধ্যে থাকা আবশ্যক। বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে উৎপন্ন হয়।
iii. বায়ুপ্রবাহ : বায়ুপ্রবাহ ফসলের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এছাড়া প্রবাহমান বাতাস মৃত্তিকার নাইট্রোজেনের স্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে ।
মৃত্তিকা : পলিযুক্ত উর্বর এঁটেল-দোঁআশ মাটি ধান চাষের জন্য সর্বাধিক উপযোগী। কারণ এ ধরনের মাটি অধিক পরিমাণ পানি ধারণ করে রাখতে সক্ষম।
পানির সান্নিধ্য : ধানের জমিতে পানির ঘাটতি হলে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় না। তাই নদী, হ্রদ, বিল, ঝিল প্রভৃতি অঞ্চলে ধানের চাষ বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া স্বল্প বৃষ্টিযুক্ত বা শুষ্ক অঞ্চলে নদী থেকে সেঁচের মাধ্যমে ধানের চাষ করা হয় । যেমন- সিন্ধু ও নীল নদ অববাহিকার ধান চাষ ।