মানচিত্রে চিহ্নিত 'ক' ও 'খ' অঞ্চল দুটি হলো উত্তর অমেরিকার, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রেইরী অঞ্চল এবং এশিয়ার চীন ও ভারত। যেখানে উৎপাদিত ফসলটি হলো গম। নিচে গম উৎপাদনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো-
গম উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এদেশে ২০১৯ সালে ৫.২৩ কোটি মেট্রিক টন গম উৎপন্ন হয়। ব্যাপক কৃষিপদ্ধতির মাধ্যমে এদেশে যন্ত্রের সাহায্যে গম চাষ করা হয়। গম উৎপাদনে কানাডা বিশ্বে ষষ্ঠ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চাষাবাদ করায় কানাডায় গম উৎপাদন অনেক বেশি। কানাডার প্রেইরি, আলবার্টা, ম্যানিটোবা প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর গম উৎপাদন হয়। উভয় দেশের সীমান্তবর্তী প্রেইডির অঞ্চলজুড়ে এতো বেশি গম উৎপাদিত হয় যে, এই অঞ্চকে 'বিশ্বের রুটির ঝুড়' বলা হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় গমের উৎপাদন অত্যন্ত বেশি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর গম বিদেশে রপ্তানি করে। গম রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করে আছে।
অপরদিকে, চীন গম উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানের অধিকারী। ২০১৯ সালে এদেশে ১৩.৩৬ কোটি মেট্রিক টন গম উৎপন্ন হয়। এদেশে শীতকালীন ও বসন্তকালীন উভয় প্রকারের পম উৎপাদিত হয়। প্রধান গম অঞ্চলগুলো এদেশের হোয়াংহো নদী উপতাকা, ইয়াংসিকিয়াং নদী উপতাকা ও মাঞ্চুরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। উত্তর চীনের অধিবাসীদের প্রধান খাদ্যশস্য গম। চীনের উত্তর ভাগে বসন্তকালীন পম ও দক্ষিণ ভাগে শীতকালীন গম উৎপন্ন হয়। বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে ভারত। দেশটি গম উৎপাদনে ২সানের অধিকারী। ভারতের উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে ভালো গম উৎপাদিত হয়। ভারতে মূলত শীতকালনি গম বেশি উৎপন্ন হয়।
সুতরাং জলবায়ু, মৃত্তিকা, ভূমির পরিমাপ ও ভূপ্রকৃতির পার্থক্যের কারণে এ দুই দেশের গম উৎপাদনের পরিমাণগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদিও উভয় অঞ্চলের গম চাষের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।