"উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে এলাকার জন্য যে মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় তা ব্যাপকতা লাভ করেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বদেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত নিজের দেশকে ভালোবাসা, দেশের উন্নতির জন্য কাজ করা। দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকই তা করে থাকেন। কিন্তু স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা করে না। হীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেদের সুবিধার জন্য নিজ বংশ, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
উদ্দীপকে ব্যক্তিস্বার্থে নিজের পরিবার, সমাজ ও গ্রামের সঙ্গে সোহেলের বিশ্বাসঘাতকতা এবং তার বয়সী আরিফের এলাকাপ্রীতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে 'মাহমুদপুর' এবং পাশ্ববর্তী 'কাশিপুর' গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হলে আরিফ তার গ্রামের ' পক্ষে কাজ করে। সে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, লাঠিসোঁটা জোগাড় করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিজের গ্রামের সম্মান রক্ষায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এই বিষয়টি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণ ও মেঘনাদ চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে স্বজাতির প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে আরিফ মেঘনাদ চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণ রামানুজ লক্ষ্মণকে সাহায্য করেছে মেঘনাদকে হত্যা করার জন্য। আর মেঘনাদ স্বদেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। উদ্দীপকে এই ধরনের ঘটনা না থাকলেও ক্ষুদ্র পরিসরে এই ঘটনায় সোহেল বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে। আর আরিফ নিজের গ্রামবাসীকে সংগঠিত ও প্রস্তুত করে গ্রামের সম্মান রক্ষার আয়োজন করে মেঘনাদের মতো স্বদেশানুরাগের পরিচয় দিয়েছে। তার সেই প্রস্তুতির পরিণতি এখানে উল্লেখ না থাকলেও অনুমান করা যায় যে, সর্বশক্তি নিয়ে কাশিপুরবাসীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।