"উদ্দীপক ও বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে মহৎ করে। দেশপ্রেম মানুষকে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করে। স্বদেশের স্বার্থে
একজন দেশপ্রেমিক দেশের জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিতে পারেন। আর যারা স্বদেশের মঙ্গল কামনা না করে স্বদেশের শত্রুর সঙ্গে হাত মেলায় তারা বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক কখনো যুদ্ধের নিয়ম মানে না।
উদ্দীপকে এক মহান যোদ্ধার আদর্শ ও মহারথীপ্রথা মেনে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এখানে বীর যোদ্ধা ঈশা খাঁ মানসিংহের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানসিংহের তরবারি ভেঙ্গে ফেলেছেন। কিন্তু অসহায় মানসিংহকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেননি। তিনি তাকে নিজের কোষ থেকে অস্ত্র উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধ করার জন্য আহ্বান করেছেন। এই ঘটনাটির বিপরীত ঘটনা ঘটেছে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়। সেখানে লক্ষ্মণ অন্যায়ভাবে নিরস্ত্র মেঘনাদকে নির্মমভাবে. নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে হত্যা করেছে।
'বিভীষণের প্রতি 'মেঘনাদ' কবিতায় কবি বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষ্মণের নির্মমতা এবং মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম তুলে ধরেছেন। এখানে বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মেঘনাদের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব, স্বদেশপ্রেম ও সাহসিকতা। স্বজাতির প্রতি মেঘনাদের মমত্ববোধ সবার দৃষ্টি কাড়ে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।