"উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ ভালো-মন্দ উভয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আত্মস্বার্থ চরিতার্থের জন্য মানুষ প্রিয়জনবিমুখ হয়। লোভ-লালসায় পড়ে নিজের জাত, বংশ ও রক্তের সঙ্গেও মানুষ বিরোধিতা করে। একে অন্যের বিশ্বাস ভঙ্গ করে, বিশ্বাসঘাতক হয়ে ওঠে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষ্মণের নির্মমতা এবং মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম তুলে ধরা হয়েছে। স্বদেশভূমি বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ ইষ্টদেবতার পূজা করার জন্য মনস্থির করে। মায়াদেবীর অনুগ্রহে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে উপস্থিত হয়। বিভীষণ নিরস্ত্র মেঘনাদকে অস্ত্রাগারে যেতে বাধা দেয়। এই বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং বাংলার স্বাধীনতাসূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎশেঠের অসহযোগিতা তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মেঘনাদের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিভীষণের প্রতি আক্ষেপ, সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও স্বজাতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ।' এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক ভাব ৰূপায়িত হয়েছে।