"উদ্দীপকের সাদ্দাম হোসেনের মাঝে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদের চরিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে।"- হ্যাঁ, মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি। কারণ, তাদের উভয়ের মধ্যেই স্বদেশের জন্য গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।
দেশের স্বার্থকে যারা ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার জন্য তুচ্ছ বিবেচনা করে তারা দেশদ্রোহী। আর দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা দেশকে কেবল ভালোই বাসেন না, দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তারা সবসময় প্রস্তুত থাকেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তারা মৃত্যুকে হাসিমুখে গ্রহণ করেন। তারা কোনো অবস্থাতেই শত্রুর কাছে মাথা নত করেন না।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ নিজ দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এ কারণেই শত্রুপক্ষকে সে ভয় করেনি। বরং অসীম সাহসিকতা আর বীরত্বের সঙ্গে শত্রুর মুখোমুখি হতে চেয়েছে। কিন্তু কপটতার সুযোগ নিয়ে লক্ষ্মণ অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করেছে। উদ্দীপকের সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও অনুরূপ দেশপ্রেম, স্বাজাত্যবোধের এই প্রগাঢ়তা লক্ষ করা যায়। তাই নিজ দেশকে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শত্রুর হাতে নির্মমভাবে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেন এবং মেঘনাদ উভয়ই দেশপ্রেমের মহান আদর্শে উজ্জীবিত। তাই দেশের জন্য তারা আত্মত্যাগ করেছেন, তবু শত্রুর সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করেননি। এ কারণে আমি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সঙ্গে একমত।