উদ্দীপকের বিষয়টি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়গুলো নির্দেশ করে।
সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় একটি দেশ, জাতি ও মানুষের সার্বিক অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য। তাই সাহিত্য হওয়া উচিত নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করলে তা কালোত্তীর্ণ হয় না।
উদ্দীপকে খ্যাতনামা কবিয়াল শ্রী রমেশচন্দ্র শীল মাইজ-ভান্ডারপন্থি মারফতি গান লিখে পুস্তিকায় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমি ভাবলাম এরূপ গান লিখলে বেশ কাটতি হবে, আমার পয়সা হবে।' অর্থাৎ তিনি স্বার্থের জন্য সাহিত্য রচনা করেছেন। যার ফলে তা মানবমনে বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি। অনেক মুসলমান কবিও নেশা এবং পেশার কারণে বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন। তাদের অবস্থাও একই। প্রাবন্ধিক উক্ত বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখেই বলেছেন যশের জন্য লিখবেন না, টাকার জন্য লিখবেন না। কারণ অর্থ ও যশের জন্য লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে। এতে রচনার বিকৃতি ও অনিষ্ট ঘটে। তিনি আরও বলেছেন, অসত্য, পরপীড়ন ও স্বার্থসাধন যেন সাহিত্যের উদ্দেশ্য না হয়। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সারকথা: অর্থ,যশ ও ব্যক্তিস্বার্থে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করা ঠিক নয়। কারণ এতে সাহিত্য মান হারায়।